খালেদা জিয়া কে দেশের মানুষ আর বিশ্বাস করেনা।

খালেদা জিয়া কে দেশের মানুষ আর বিশ্বাস করেনা।আগে মন্দিরে উলুধ্বনির কথা বলে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়িয়েছে । স্বামীর মত ভারত বিরোধীতার কথা বলে মানুষ কে বিভ্রান্ত করেছে! কিন্তু দেশের মানুষ আর ভারত বিরোধী ট্যাবলেট খায়না। ৪৩ বছর ত দেখছি।দেশ আমাদের এগিয়ে চলেছে। ভারতের সাথে আমাদের কিছু সমস্যা আছে। বিশ্বের যে কোন দেশের সাথে অপর কোন দেশের সীমানা রয়েছে, সব দেশেই এ জাতীয় ছোট খাটো সমস্যা বিরাজ করে কিন্তু ভারত আমাদের মহান স্বাধীনতায় এবং পরবর্তীতে দেশগড়ার কাজে সহায়তা দেয়া ছাড়া উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে কোনImage বাধা বাধা সৃষ্টি করেনি। কিন্তু খালেদা ও তাঁর দুর্নীতিগ্রস্ত পুত্র তারেক পাকিস্তানের সঙ্গে গোপন আঁতাতে আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত খেলায় নেমেছে, তা’ ১৯৯১ সালে আই এস আই’র অর্থে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হত্যা নির্যাতনসহ হিন্দু নারী ভোটারদের উপর অমানবিক নিপীড়ন, লুণ্ঠন, হেফাজতের শিশুদের দিয়ে সরকার পতনের ব্যর্থ অভ্যুন্থান ও দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় দেশের ও বিদেশের জ্ঞানী গুনিজনদের কাছে পরিস্কারভাবে ধরা পড়ে গেছে! এখন তিনি শুরু করেছেন, গুম অপহরণের নবতম নাটক যা’ দেশের মানুষ অতি সহজেই অনুধাবন করতে পারছে। মানুষ পেট্রোল বোমায় জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার মতো বীভৎস দৃশ্য এতো সহজে ভুলে যায়নি।
দেশের মানুষ খালেদার আসল চেহেরা চিনে গেছে! চোরের মা’র বড় গলার শব্দ এখন আর জনগণ শুনতে চায়না, তারা চায় ভালো সুরেলা কন্ঠে উন্নয়ন শান্তি শিক্ষা প্রগতি ও সমৃদ্ধির গান।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেককে দেখতে চাই না যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ক্রাউলি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেককে দেখতে চাই না
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ক্রাউলিImage

বর্ণমালা নিউজ ও এনা, নিউইয়র্ক থেকে ॥ বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান যোসেফ ক্রাউলিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবহিত করে বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সোমবার ক্রাউলির কুইন্স অফিসে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করে বিরোধীদলের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির চিত্র তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, সহ-সভাপতি আকতার হোসেন ও কার্যকরী সদস্য শাহানারা রহমান।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের চিত্র স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিনিধি দল ক্রাউলির কাছে জানতে চেয়েছিল তিনি কি প্রত্যাশা করেন যে তারেক জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হোক? তাদের প্রশ্নের উত্তরে ক্রাউলি সরাসরি বলেন, ‘আই হোপ নট’- বর্ণমালাকে এ কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ প্রদত্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আওয়ামী লীগের ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল দীর্ঘ ৪৫ মিনিট নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত এবং এবং বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল এই কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে সম্প্রতি সেক্রেটারি অব স্টেট হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফর, ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্তর্জাতিক মান, তারেক জিয়ার বিচার ও তার ভবিষ্যতে বাংলাদেশে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার ও সাম্প্রতিক জামায়াত-বিএনপির অহেতুক হরতাল ও পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, জ্বালাওপোড়াওসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণসহ সকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অত্যন্ত হৃদ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান আলোচনার সূত্রপাত করে সামগ্রিক অবস্থার একটি বিশদ বিবরণ উপস্থাপন করেন। এ ব্যাপারে তিনি কংগ্রেসম্যান যোসেফ ক্রাউলিকে বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সচিত্র প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান, সহ-সভাপতি আকতার হোসেন ও সদস্য শাহানারা রহমানও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিনিধি দলের এক প্রশ্নের জবাবে ক্রাউলি বলেন, তারেক জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসুক এটা আমরা আশা করি না। ড. সিদ্দিকুর রহমান ক্রাউলির এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ড. ইউনূসের প্রতি সরকারের কোন বিরূপ নীতি থাকলে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দিতেন না। ক্রাউলিও মনে করে ড. ইউনূসের ব্যাপারটি এখন ‘ডান ডিল।’
নিজাম চৌধুরী ক্রাউলিকে স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলে গত সোয়া তিন বছরে বাংলাদেশে কোন প্রকার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংগঠিত হতে পারেনি।
সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বলেন, যোসেফ ক্রাউলি বাংলাদেশে একজন জনপ্রিয় কংগ্রেসম্যান। সহ-সভাপতি আকতার হোসেন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান পৃথিবীর কোন দেশে নেই। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে।
শাহানারা রহমান বলেন, মিস্টার কংগ্রেসম্যান, আমি এক জন মা হিসেবে দেখতে চাই, আমাদের এদেশে জন্ম গ্রহণ করা সন্তানরা যেন তাদের পিতা-মাতার দেশ বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও স্থিতিশীল দেশ হিসেবে দেখতে পারে এবং বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করার সুযোগ পায়। পরিশেষে প্রতিনিধি দল ককাস চেয়ারম্যান ক্রাউলিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন।

স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি জামাতের হত্যাযজ্ঞ ২০০১ ২০০৬

এসএএমএস কিবরিয়া শ্রদ্ধায় ও স্মৃতিতে মহিউদ্দিন আহমদ ফরেন সার্ভিসে আমার ৩৪ বছরের ক্যারিয়ারের শুরুতে, আমার সৌভাগ্য আমি জনাব এসএএমএস কিবরিয়া উপদেশ, পরামর্শ এবং কিছুটা সানি্নধ্যও পেয়েছিলাম। কিবরিয়া সাহেবকে প্রথম দেখেছিলাম ইসলামাদে ১৯৬৯-এ। তিনি কিছুদিন আগে জাকার্তার পাকিস্তান এম্বেসি থেকে বদলি হয়ে ইসলামাবাদে পাকিসত্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাইরেক্টর হিসাবে যোগ দিয়েছেন।

১৯৫৪ সালের সাবেক পাকিস্তান ফরেন সার্ভিস ব্যাচের এক কর্মকর্তা এই কিবরিয়া সাহেবের কথা আগেই শুনেছিলাম, তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র, ইকোনোমিক্স অনার্স এবং এমএতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট, তারপর সর্ব পাকিস্তান ভিত্তিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক পরিচালিত পরীৰায়ও প্রথম স্থান অধিকার করেন। তাঁর এই ব্যাচে আর একজন বাঙালী প্রবেশনার ছিলেন জনাব ফখরুদ্দিন আহমদ। কিবরিয়া সাহেব এবং ফখরম্নদ্দিন সাহেব, দু’জনই আমাদের পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। ফখরুদ্দিন সাহেব দুই বার। আবার এই দু’জনই আমাদের সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন। ফখরম্নদ্দিন সাহেব ফরেন সেক্রেটারি ছিলেন ১৯৭৪-৭৫এ প্রথম বার। আর দ্বিতীয় বার ১৯৮৬-৮৭তে। ফখরুদ্দিন সাহেবকে ফরেন সেক্রেটারি হিসাবে প্রথমবার সহ্য করতে পারছিলেন না জেনারেল জিয়াউর রহমান, এয়ার মার্শাল তোয়াব এবং কেবিনেট সেক্রেটারি শফিউল আযমরা। ১৯৭৫-এর নবেম্বরে ফখরুদ্দীন সাহেবকে অপসারণ করে তাঁর জায়গায় ফরেন সেক্রেটারি হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয় জনাব তবারক হোসেনকে। তবারক হোসেন জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে পাকিসত্মান প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবে চীন সফরে গিয়েছিলেন ১৯৭১-এর নবেম্বরে। ভুট্টো তখন চীনে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ত ভারতের বিরম্নদ্ধে অস্ত্রশস্ত্রসহ কূটনৈতিক এবং সরাসরি সামরিক অভিযানের সাহায্য চাইতে। তবারক হোসেন ছিলেন ফখরম্নদ্দিন সাহেবের পাঁচ বছরের সিনিয়র। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসে ওএসডি হিসাবে ১৯৭৫-এর নবেম্বর পর্যন্ত আমাদের ফরেন মিনিস্ট্রিতে চেয়ার- টেবিলবিহীন অবস্থা থেকে একেবারেই ফরেন সেক্রেটারি। আর ফখরম্নদ্দিন সাহেবকে পাঠানো হলো যুগোসস্নাভিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসাবে। ‘৭৯ পর্যনত্ম এই ফরেন সেক্রেটারির পদ থেকে তবারক হোসেন সাহেব ছিলেন ওয়াশিংটনে আমাদের এ্যাম্বাসেডর হিসাবে। আর তার জায়গায় ফরেন সেক্রেটারি হিসাবে জেনেভা থেকে আসলেন এসএএমএস কিবরিয়া। জেনেভায় কিবরিয়া সাহেব ছিলেন জাতিসংঘের ইউরোপীয় অফিসে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। ফখরম্নদ্দিন সাহেবকে ফরেন সেক্রেটারি হিসাবে দ্বিতীয়বার সহ্য করলেন না আমাদের আর এক লেফটেন্যান্ট জেনারেল, প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ফখরম্নদ্দিন সাহেব জেনারেল এরশাদের দরবারে অন্য সচিবদের মতো নিয়মিত হাজিরা দেন না কেন, লাল টেলিফোনে প্রেসিডেন্টের খোঁজখবর নেন না কেন_ এই ছিল ফখরম্নদ্দিন সাহেবের বিরম্নদ্ধে প্রধান অভিযোগ। সুতরাং ফখরম্নদ্দিন সাহেব ছিলেন ওএসডি এবং তার পর অবসর। পরে ১৯৯০-এর ডিসেম্বরে এরশাদের পতনের পর, দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফখরম্নদ্দিন সাহেব ফরেন মিনিস্ট্র্রিতে ফিরে এলেন ‘উইথ গেস্নারি এ্যান্ড অনার।’ বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের এই সরকারে ফখরম্নদ্দিন সাহেব দায়িত্ব পেলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসাবে। আমরা জানি যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা, বেতন_ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। ফখরম্নদ্দিন সাহেবও তা পেলেন এবং সাফল্য ও কৃতিত্বের সাথেই কয়েক মাস পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করলেন। দারম্নণ সাফল্য এবং কৃতিত্বের সাথে সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করলেন কিবরিয়াও। ১৯৯৬-এর ২৩ জুন যে মন্ত্রিসভা শেখ হাসিনা গঠন করলেন, সেখানে তিনি জনাব কিবরিয়াকে যথাযোগ্য মর্যাদা এবং গুরম্নত্ব দিয়ে সম্মানিতও করলেন। এখানে উলেস্নখ করা প্রয়োজন যে, জনাব কিবরিয়া কিন্তু ১৯৯৬-এর ১২ জুনের সাধারণ নির্বাচনে সংসদ সদস্যপদে নির্বাচন করেননি; এবং তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কমিটির প্রধান হিসাবে আওয়ামী লীগের পৰে পুরো নির্বাচনী ক্যাম্পেনের দায়িত্বেই থাকলেন। ১৯৭৫-এর ২১ বছর পর ১৯৯৬তে এই প্রথম আওয়ামী লীগ আবার ৰমতায় গেল। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ে শেখ হাসিনার ‘ক্যারিশমা, অবদান এবং ভূমিকা অন্য যে কোন নেতার চাইতে প্রত্যাশিতভাবেই বেশি ছিল। শেখ হাসিনার সাথে তখন আর যাঁরা এই বিষয়ে প্রবল ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে জনাব শামসুল কিবরিয়াও শীর্ষস্থানে ছিলেন। কিবরিয়া সাহেব ১৯৮১ থেকে পরবতর্ী ১১ বছরে ছিলেন ‘এসকাপ’ (ঊঝঈঅচ- ঊপড়হড়সরপ ধহফ ঝড়পরধষ ঈড়সসরংংরড়হ ভড়ৎ অংরধ ধহফ চধপরভরপ) -এর এঙ্িিকউটিভ সেক্রেটারি। এসকাপ হচ্ছে জাতিসংঘেরই একটি আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান। এই অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো এবং সমন্বয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। এঙ্িিকউটিভ সেক্রেটারির পদটি হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য নির্বাহীর। তাঁর র্যাঙ্কটি হচ্ছে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের। জাতিসংঘের শীর্ষ নির্বাহীর পদটি হচ্ছে সেক্রেটারি জেনারেলের। কয়েক বছর আগে ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেলের একটি পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তার পরই হচ্ছে ‘আন্ডার সেক্রেটারি’ জেনারেল। কিবরিয়া সাহেবও ছিলেন জাতিসংঘের একজন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল। বাংলাদেশের তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এমন একটি শীর্ষ পদে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন একটানা ১১ বছর। তার পর তার মতোই আরও দু’জন বাংলাদেশী এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন। একজন ফরেন সার্ভিসে, আমার ব্যাচমেন্ট আনোয়ারম্নল করিম চৌধুরী। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। ২০০৬-এ ৰমতায় ফিরে এসে মোহতারেমা খালেদা জিয়া এবং দৈনিক মানবজমিন তাকে সহ্য করতে পারছিলেন না। তখন জাতিসংঘের মহাসচিব কোফি আনান এই আনোয়ারম্নল করিম চৌধুরীকে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল র্যাঙ্কের একটি পদে নিয়োগ দিয়ে নিউইয়র্কেই রেখেছেন। এখন তিনি অবসরে, থাকছেন নিউইয়র্কেই। বর্তমানেও জাতিসংঘ সিস্টেমে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল র্যাঙ্কে একজন বাংলাদেশী কাজ করছেন। তিনি আবার একজন মহিলা, অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক আজকের কাগজ’-এর সম্পাদক কাজী শাহেদ আহমেদের শ্যালিকা। নাম তাঁর আমীরা হক, এখন আছেন টিমুর ইস্টে (পূর্ব তিমুর)। জাতিসংঘের এক সাবেক মহাসচিব কোফি আনান যখন জাতিসংঘের এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল, তখন কিবরিয়া সাহেব কিন্তু একজন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল। কোফি আনান জাতিসংঘে ছোট চাকরি দিয়ে শুরম্ন করে পরে উঠতে উঠতে সেক্রেটারি জেনারেলও হলেন। আর এই পদে থাকলেন পাঁচ বছর মেয়াদী পর পর দুই টার্ম। কিবরিয়া সাহেব মেধাবী ছাত্র ছিলেন, মেধাবী কর্মকর্তা ছিলেন। জেনেভাতে বাংলাদেশের অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার, স্থায়ী প্রতিনিধি, তার পর ফরেন সেক্রেটারি। ছিলেন জাতিসংঘের একজন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলও। এমন যোগ্যতা, দৰতা এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন মানুষকে শেখ হাসিনা ১৯৯২তেই নিয়োগ দিলেন তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবে। শুধু ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ পদ থেকে কিবরিয়া সাহেবের তখনকার গুরম্নত্ব বোঝা যাবে না। এই পদে কিবরিয়া সাহেব যথার্থভাবেই হয়ে উঠলেন শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠতম পরামর্শদাতাদের একজন হিসাবেও। একটি গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয় এ প্রসঙ্গে সকলকে লৰ্য করতে অনুরোধ করি। এত বছর উচ্চশিৰিত ব্যক্তিবর্গ এবং সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লোকজন আওয়ামী লীগকে এড়িয়ে গেছেন। আমার জানা মতে, এই শাহ আবু মোহাম্মদ শামসুল কিবরিয়া হচ্ছেন এমন সমৃদ্ধ ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রথম ব্যক্তি, যিনি আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে সরাসরি যোগ দিলেন। ফরেন সার্ভিসের এই কিবরিয়া সাহেবের কিছু আগে বা পরে যোগ দিলেন সাবেক সিভিল সার্ভিস অব পাকিসত্মান- সিএসপির মফিজুর রহমান সাহেব; অনেক মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব। এখন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল, এডমিরাল, এয়ার মার্শালরাও আওয়ামী লীগে যোগ দিতে সঙ্কোচবোধ করেন না। কিন্তু ১৯৯২তে কিবরিয়া সাহেব এবং মফিজুর রহমান সাহেবদের আগে আওয়ামী লীগে ইউনিভার্সিটির প্রফেসর, সিএসপি, পিএফএস এবং এমনসব পাকিসত্মানের কেন্দ্রীয় ক্যাডার কর্মকর্তাদের কয়জন ছিলেন? আওয়ামী লীগের প্রতি দেশের সামরিক-বেসামরিক ব্যাকগ্রাউন্ডের আমলা, বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর উন্নাসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে কিবরিয়া সাহেব এই দলটিতে যোগ দিয়ে যে রিফর্ম-এর সূচনা করেন, যে ভূমিকা রাখেন, তা দেশের গুরম্নত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী কতগুলো শ্রেণীর কাছে আওয়ামী লীগের সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ বললেই তখন যে ‘নেগেটিভ’ প্রতিক্রিয়া দেখা যেত, এখন তা আর নেই। স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রলীগের সাথে অল্পবিসত্মর যুক্ত ছিলাম বলে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই এই কথাগুলো বলছি। কিবরিয়া সাহেব জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন না। কিন্তু শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার টেকনিক্যাল কোটায় তাঁকে অর্থমন্ত্রীর পদে নিয়োগ দিয়ে তখন যথার্থ কাজটিই করলেন। কেউ কেউ আশা করেছিলেন, তিনি শেখ হাসিনার নতুন সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দিলেও তিনি একই রকমের সাফল্য ও কৃতিত্ব দেখাতে পারতেন বলে অনেকেই মনে করেন। কিন্তু তাহলে অর্থমন্ত্রী কে হবেন? আবদুস সামাদ আজাদকে অবশ্যই অর্থমন্ত্রী করা যেত না। এসএএমএস কিবরিয়া অর্থমন্ত্রী ছিলেন বলেই তো, আমার মনে হয়, তখন দেশের এবং আমাদের দরিদ্র-অবহেলিত শ্রেণী নানান কিসিমের সাহায্য সহযোগিতা পেতে থাকল। মনে পড়ে, বয়স্ক ভাতা তিনিই তো প্রথম শুরম্ন করলেন এবং তা বছর বছর বাড়াতেও থাকলেন। বাড়াতে থাকলেন সুবিধাপ্রাপ্তদের সংখ্যায় এবং সুবিধার পরিমাণেও। কিবরিয়া সাহেবের চালু করা সেই প্রোগ্রাম এখন বর্তমান অর্থমন্ত্রী জনাব এএমএ মুহিতের জামানায়, আরও বাড়ছে। আশা করি, বাড়তে থাকবেও। বাড়াতে হবে যতদিন এক জনমাত্রও দরিদ্র, পঙ্গু, ভিৰুক থাকবে এই দেশে। মুহিত সাহেবও কিবরিয়া সাহেবের মতোই সিলেটের। দু’জনই কাছাকাছি বয়সের। মুহিত সাহেবও কিবরিয়া সাহেবের মতো মেধাবী ছাত্র ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। মুহিত সাহেব ইংরেজীতে অনার্স এবং এমএতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। দু’জনই বাহান্নোর ভাষা আন্দোলনে জেল খেটেছেন। মুহিত সাহেবেরও আনত্মর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিবরিয়া সাহেবের এসকাপে, ব্যাংককে এবং মুহিত সাহেবের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ম্যানিলায় এবং দু’জনই একাত্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ওয়াশিংটনের পাকিসত্মান এ্যাম্বেসিতে কিবরিয়া সাহেব ছিলেন পলিটিক্যাল কাউন্সিলর। আর মুহিত সাহেব ইকোনোমিক কাউন্সিলর। পাকিসত্মানের এই এ্যাম্বেসির ‘ডেপুটি চীফ অব মিশন’ এনায়েত করীম (পরে ফরেন সেক্রেটারি) এডুকেশন কাউন্সিলর আবু রম্নশ্্দ মতিন উদ্দিন, থার্ড সেক্রেটারি সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী (পরে ফরেন সেক্রেটারি)সহ সকল বাঙালী কর্মকর্তা-কর্মচারী ৭১-এর আগস্টের প্রথমদিকে তাদের চাকরি-বাকরি ছেড়ে দিয়ে মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পৰে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনমত সৃষ্টি করা ছাড়াও নানাবিধ কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। এমন ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষদের কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া মানবদরদী হতেই হয়। তাই তো, আমার বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার সরকারগুলোর তিন জন অর্থমন্ত্রীই_ জনাব তাজউদ্দীন আহমদ, জনাব এসএএমএস কিবরিয়া এবং জনাব এএমএ মুহিত_ সকলেই মানবদরদী, গরীব দরদী, সৎ, দৰ এবং সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ। এই তিন অর্থমন্ত্রীর কারও বিরম্নদ্ধে কি কখনও সামান্যতম দুনীর্তি বা অনিয়মের অভিযোগ ছিল বা এখনও আছে? ১৯৬৯-এর অক্টোবরে আমার জীবনের প্রথম ফরেন পোস্টিং-এ যাচ্ছিলাম লন্ডনে। লন্ডনের পাকিসত্মান হাইকমিশনে থার্ড সেক্রেটারি হিসাবে আমার এই বদলি ইসলামাবাদের ফরেন মিনিস্ট্রিতে। ফরেন মিনিস্ট্র্রিতে তখন কিবরিয়া সাহেব ডাইরেক্টর (পারসোনেল)। মানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, প্রমোশন, পোস্টিং, ট্রান্সফার, বরখাসত্ম, সাসপেনশন, ইত্যাদি বিষয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বস্তুত তাঁর সইতেই আমার লন্ডনে বদলি। লন্ডনে যাওয়ার আগে দেখা করতে গেলাম তাঁর সঙ্গে। কাজ দিলেন একটি, আর উপদেশও দিলেন একটু। কাজটি হলো, রেজার (তাঁর একমাত্র ছেলে, তখন বয়স বোধ হয় আট/দশ) জন্য ডাকটিকেট পাঠাতে হবে। ডাকটিকেট সংগ্রহ রেজার ‘হবি’। আর উপদেশটি? জীবনে চলার পথে অনেক অনেক ‘কম্প্রোমাইজ’, আপোস করতে হবে। তবে জীবনে এমন সময়ও আসবে যখন বলতে হবে, বুঝতে হবে, অবস্থান নিতে হবে_ ‘দিস্্ ফার, নো ফারদার।’ কিবরিয়া সাহেবের এই কথাগুলো ভিন্নভাবে পরে ফখরম্নদ্দিন সাহেবও আমাকে বলেছেন। তাঁদের এই উপদেশটি আমার জীবনে আমি যথাসাধ্য অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি। একাত্তরের আগস্টের প্রথম দিকে কিবরিয়া সাহেব ওয়াশিংটনে যে কাজটি করেন, একাত্তরে লন্ডনের মাঠেও তা করার অনুপ্রেরণা কিবরিয়া সাহেবদের কাছ থেকে পেয়েছিলাম।

১৯৭৫ ২০০৬

The Crime and Criminal Worldwide

কয়েক দিন আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আলাপ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার আমরাও চাই। কিন্তু বিচারের নামে রাজনৈতিকভাবে কাউকে হয়রানি করা যাবে না।’ ১৯ মে পল্টন ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘বিএনপি যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধী নয়। তবে সেই বিচারের

war criminal SAKA Chowen lie motherchod chottola

নামে কাউকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হলে তাঁরা মেনে নেবেন না।’ খুবই ন্যায়সংগত ও যুক্তিপূর্ণ কথা। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই সব বিচার-প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধের মতো স্পর্শকাতর একটি বিচার-প্রক্রিয়ায় কোনো গলদ বা ফাঁকফোকর থাকা উচিত নয়। এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারে বিএনপির সহযোগিতা চাইলেন, তখন দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বললেন, একদিকে সহযোগিতা চাইবেন, অন্যদিকে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাবেন, এ স্ববিরোধী নীতি চলতে পারে না। কেবল তিন শীর্ষস্থানীয় নেতা নন, চিহ্নিত কয়েকজন বাদে গত ১৯ মাসে বিএনপির প্রায় সব স্তরের নেতা-নেত্রীর বক্তৃতা-বিবৃতি ঘাঁটলে দেখা যাবে, সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও কেউ যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নেননি।কিন্তু ৫ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া তাঁর বক্তৃতায় সরাসরি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পরপরই প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

war criminal jokes

স্বাধীনতাবিরোধীদেরও তখনকার সরকার ক্ষমা করে দিয়েছিল। আজ প্রায় চার দশক পর স্বাধীনতাবিরোধীদের সহযোগীদের বিচারের কথা বলে জাতিকে হানাহানির দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। সরকারের দুমুখো নীতির বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে (প্রথম আলো, ৬ অক্টোবর ২০১০)।’আমরা ধন্দে পড়ে যাই। এ কার কণ্ঠ শুনছি—মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপি-প্রধানের কণ্ঠ, না স্বাধীনতাবিরোধী ও মৌলবাদী কোনো দলনেত্রীর?বক্তব্যটি হঠাৎ মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে, তা ভাবার কারণ নেই। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে এ পর্যন্ত যা যা ঘটেছে, সংক্ষেপে তার বিবরণও দিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর কথায়, জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিধ্বনি ছিল না, ছিল জামায়াতের সুর। খালেদা জিয়ার প্রথম
কথা হলো, আওয়ামী লীগ ‘প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের’ বিচার করেনি। স্বাধীনতাবিরোধীদের সহযোগীদের বিচারের নামে এখন তারা জাতিকে হানাহানির দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। গুটিকয়েক যুদ্ধাপরাধীর বিচার করলে দেশে হানাহানি দেখা দেবে না। বরং তাদের বিচার না হওয়ায় জাতিকে কলঙ্কের বোঝা বইতে হচ্ছে।তাঁর দ্বিতীয় কথা হলো, এই বিচার রুখে দিতে হবে।কী মারাত্মক কথা! বিচার সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়ার কথা নয়। বিচার রুখে দিতে হবে!বিএনপি নিজেকে মধ্যপন্থী, উদার গণতান্ত্রিক ও সাচ্চা জাতীয়তাবাদী দল বলে দাবি করে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও নাকি বিএনপি ছাড়া অন্য কারও হাতে নিরাপদ নয়। স্বাধীনতার সঙ্গে জাতীয় চেতনা, মুক্তিযুদ্ধ, জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি নিশ্চয়ই ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

war crime & justice


বিএনপি নেত্রী কোথায় পেলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার করলে জাতি বিভক্ত হবে? হানাহানি সৃষ্টি হবে? কোন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করায় জাতি বিভক্ত হয়েছে? গণহত্যা ও বর্বরতার দায়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত নাৎসি বাহিনীর বিচার হয়েছে। বসনিয়া ও কাম্পুচিয়ার যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার চলছে। তাতে সেসব দেশ বিভক্ত বা দুর্বল হয়নি। গ্লানি ও পাপমুক্ত হয়েছে।খালেদা জিয়া ‘প্রায় চার দশক পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশ্নটি যৌক্তিক, কিন্তু উদ্দেশ্য সৎ নয়। আমরাও মনে করি, মানবতা ও সভ্যতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারীদের বিচার অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। এত দিনেও তাদের বিচার করতে না পারা আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা। যুক্তির খাতিরে ধরে নিলাম, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকার তাদের বিচার না করে ভুল করেছে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই ভুল সংশোধন করল না কেন? স্বাধীন বাংলাদেশে বিএনপিই তো সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় ছিল। নিশ্চয়ই আবারও তারা ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখে।আমরা অতীত নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না। আইন ও ন্যায়বিচারের কথা বলতে চাই। বিএনপি নেত্রীকে জিজ্ঞেস করতে চাই, স্বাধীনতার চার দশক পর যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নিতে আইনগত বাধা আছে কি? নেই। তাহলে বিএনপির গা জ্বালা করার কারণটা কী? তাদের দলে কতজন যুদ্ধাপরাধী আছে? মাত্র একজনের (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) অপরাধ তদন্ত করায় খালেদা জিয়া এভাবে খেপে গেলেন কেন? না এর পেছনে আরও কারণ আছে? ৮ অক্টোবরের কাগজে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাবেক শিল্পসচিব ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শোয়েব আহমদ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী তাঁকে বলেছিলেন, এ বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ অবগত আছে।

war criminals

সরকার সব ব্যবস্থা নিচ্ছে।’ (প্রথম আলো, ৮ অক্টোবর, ২০১০)।যুদ্ধাপরাধের বিচারে খালেদা জিয়া বা বিএনপির অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে ১০ ট্রাক অস্ত্রের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও ভেবে দেখার বিষয়। সে দিন মতিউর রহমান নিজামী শিল্পসচিবকে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের কথা বলে অভয় দিয়েছিলেন। তার বিনিময়ে আজ কি খালেদা জিয়া নিজামী সাহেবদের এই বলে অভয় দিচ্ছেন যে ‘আমরা আছি তোমার পাশে’?খালেদা জিয়া প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে সহযোগীদের বিচার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে ‘প্রকৃত’ ও ‘অপ্রকৃত’ বলে কিছু নেই। যারা একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত ছিল, তারাই যুদ্ধাপরাধী। খালেদা জিয়া ‘প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী’ বলতে নিশ্চয়ই দখলদার পাকিস্তানি সেনাদের বুঝিয়েছেন। আমরা তাদের বিচার করতে পারিনি, সেটি আমাদের ব্যর্থতা। তাই বলে দেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যাবে না কেন? খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের সহযোগী’ বলে তাদের অপরাধ লাঘব করতে চাইছেন। সরকার এখন ‘স্বাধীনতাবিরোধীর’ বিচার করছে না, তাদের জন্য বিশেষ আদালতও গঠন করা হয়নি। বিচার হচ্ছে একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধে যারা জড়িত ছিল, তাদের। সে সময় জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী, পিডিপি, কৃষক প্রজা পার্টি এবং অন্যান্য দলের হাজার হাজার নেতা ও কর্মী স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর দালাল আইনে তাঁদের বিচার শুরু হয়েছিল। অনেকের জেল-জরিমানা হয়েছিল। অনেকে আবার ক্ষমতাসীনদের নানা রকম এনাম দিয়ে ছাড়াও পেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমা করে দিয়েছিল, এ কথা ঠিক। সেই ক্ষমার মধ্যে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে কেন ক্ষমাপ্রাপ্তদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করল? দেশের মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী বানাল? আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমা করে যদি সগিরা গুনাহ করে থাকে, বিএনপি করেছে কবিরাহ গুনাহ।
এরপর খালেদা জিয়া যে ভয়ংকর কথাটি বলেছেন, তা হলো যুদ্ধাপরাধীদের ‘বিচার রুখে দিতে হবে’। তিনি কীভাবে ভাবলেন, জনগণ তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দেবে?২০০৮ সালের নির্বাচনের কথা কি তাঁর মনে আছে? সেই নির্বাচনে তিনি দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও স্লোগান দিয়েছিলেন। ভোটাররা আমলে নেননি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা ছিল না। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ছিল। জনগণ আওয়ামী লীগকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। এখন আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে তাদের অভিযুক্ত হতে হবে। যেমনটি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে।এ কথা ঠিক, গত ২০ মাসে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের কাছে দেওয়া অনেক অঙ্গীকারই রাখতে পারেনি। সর্বত্র দলবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগবাজি চলছে। বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির উচিত এর প্রতিবাদ করা। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করছে কেন? আগে বিদেশি জুজুর ভয় দেখাত। কিন্তু যখন দেখা গেল কোনো দেশই তাদের কথা আমলে নিচ্ছে না তখন হানাহানির ভয় দেখাচ্ছে। এটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের কাজ নয়।বিএনপি চেয়ারপারসন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রুখে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দেশবাসী দূরে থাক, এ কাজে তিনি দলের কর্মীদেরও পাবেন না। বিএনপিতে হাতে গোনা কয়েকজন যুদ্ধাপরাধী থাকলেও সবাই তাদের সমর্থক নয়। দলের নতুন প্রজন্মের নেতা-কর্মীরাও যুদ্ধাপরাধের বিচার চান। আমরা স্মরণ করতে পারি, ১৯৯২ সালে গোলাম আযমের নাগরিকত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঘাতক-দালালবিরোধী আন্দোলনের শুরুতে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময় শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের খামোশ করে দিয়েছিলেন। এখনো কি জামায়াতকে রক্ষা করতে খালেদা জিয়া দলীয় কর্মীদের খামোশ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন?যে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, যে দলে এখনো বহু মুক্তিযোদ্ধা আছেন, সেই দলটি যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা কীভাবে করে? তাহলে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে তো কোনো পার্থক্য থাকে না।খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত অন্যান্য পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করলেও রুখে দিতে বলেননি, কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচার রুখে দিতে বলেছেন। কেন রুখে দিতে হবে? তাতে জামায়াতের নেতারা, অর্থাৎ তাঁর দলের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা খুশি হবেন বলে? এ আহ্বানের একটাই উদ্দেশ্য, তা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর মিশনে নেমেছেন তিন-তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপালনকারী খালেদা জিয়া। কেন তাদের বাঁচাতে হবে? মনে রাখবেন, জামায়াতের মিত্রতা রক্ষার বিনিময় মূল্য অনেক বেশি। বিএনপি হঠাৎ কেন যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নিল? কার স্বার্থে? তাহলে আওয়ামী লীগের নেতারা যে অভিযোগ করে আসছিলেন সেটাই ঠিক—বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চাইছে।খালেদা জিয়া আরও বলেছেন, ‘ঐক্যবদ্ধ একটি সুন্দর দেশ ও সমাজ গড়ার জন্য জনগণ মুক্তিযুদ্ধ করেছে। আজ সেই মুক্তিযুদ্ধকে জাতির বিভাজনের হাতিয়ার করার অপচেষ্টা চলছে। ইতিহাসের বিকৃতিকে আমরা মেনে নিতে পারি না।’
ইতিহাসের বিকৃতি কারও কাম্য নয়। ইতিহাস নির্মাণে যাঁদের কোন ভূমিকা নেই, তাঁরাই ইতিহাস বিকৃতি করেন। এর দায় থেকে কেউ মুক্ত নন। ক্ষমতার হাত বদলের সঙ্গে সঙ্গে নাম কর্তন হয়, নাম যুক্ত হওয়ার মহড়া চলে। হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ১৫ খণ্ডের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রকে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জিয়াউর রহমানের উদ্যোগেই এ দলিলপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। চারদলীয় জোট আমলে তৃতীয় খণ্ড থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটিই গায়েব করে দেওয়া হয়েছিল কার নির্দেশে? এর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বানানো। ২৭ মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে জন্য বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি গায়েব করতে হবে কেন? ইতিহাসে যাঁর যেটুকু স্থান তা দিতে হবে। একাত্তরে জাতি ঐক্যবদ্ধ ছিল। কতিপয় রাজাকার-আলবদর ও শান্তি কমিটির সদস্য বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ঠেকাতে পারেনি। খালেদা জিয়া কিংবা তাঁর দল বিএনপিও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে পারবে না। যদি গায়ের জোরে বিচার ঠেকাতে চায়, তাহলে জনগণই তাদের ঠেকিয়ে দেবে।


killers should be hanged

পৃথিবীর অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ কানাডা। কানাডার পাশেই আমেরিকায় যেমন অশান্তি, উত্তেজনা, সন্ত্রাস বিরাজ করছে, সে তুলনায় কানাডার অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে।

maulana abul kalam azad

কানাডা কোনো খুনী, সন্ত্রাসী এবং যুদ্ধপরাধীদের আশ্রয় দেয় না। এখানে রাজনৈতিক আশ্রয় আর নতুন ইমিগ্রেন্টদের জন্য দ্বার খোলা। সেই সুযোগে কেউ যদি তার পরিচয় গোপান করে ঢুকে রিফুইজি হিসেবে নাগরিকত্ব লাভ করে এবং পরে তা প্রমাণ হলে কানাডা সরকার তার নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাঁকে ফেরৎ পাঠায়। এরকম একাধিক নজির আছে। তার ২/১টি দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় হিটলারের নাৎসি বাহিনীর দখলে ইউক্রেন, তখন ইউক্রেন নাগরিক ভ্যাসুলি আব্রামোভিচ বাকুতিন তাদের দোসর-দালাল হিসেবে নিজামী-মুজাহিদ-সাঈদীদের ভূমিকা পালন করে একটি শিশুসহ ইহুদি পরিবারকে হত্যা করে এবং জামার্নির শিবিরে ইউক্রেন তরুণীদের প্রেরণ করে। এছাড়াও ইউক্রেনের ৯ জন মুক্তিসেনাকে হত্যা করে। এভাবেই সে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মানবতা বিরোধী কাজ করেছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জার্মানীর পরাজয়ের পর নাম গোপন করে বদর বাকুতিন অষ্ট্রিয়ায় আত্মগোপন করেছিল।
যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সদ্য কারাদণ্ড প্রাপ্ত কম্পোডিয়ার খেমাররুজ নেতা কাইং গুয়েক ইভ ওরফে দুকও চায়নায় ১৯৭৯ থেকে এক যুগ পালিয়ে ছিল, পরে ১৯৯৯ সালে এক আইরিশ সাংবাদিক যুদ্ধাপরাধ দুকের প্রকৃত পরিচয় ফাঁস করে দেন এবং সে গ্রেফতার হয়। (দ্র: এপিপি, রয়টার্স, বিবিসি, ২৬ জুলাই ২০১০)। কাজেই যুদ্ধাপরাধীরা পালিয়েও রেহাই পায় না।

war criminal jokes


ইউক্রেন রাজাকার-আলবদর বাকুতিন পাঁচ বছর পর ১৯৫১ সালে কৌশলে কানাডায় ঢুকে রিফিউজী সাজে এবং মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে রুমানিয়া বলে লিপিবদ্ধ করে নাম ধারণ করে ওয়াসিল বাকুতি।
এ সম্পর্কে নজরুল মিন্টুর তাঁর ‘উত্তর আমেরিকার চালচিত্র’ গ্রন্থে লিখেছেন: ১৯৮০ সালের প্রথম দিকে সাইমন উইজেনথাল ইন্সটিটিউট (দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ইহুদি নিধনে জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য জন্যে একটি সংগঠন) উল্লিখিত ব্যক্তিটি কানাডায় বসবাস করছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে কানাডিয় সরকারকে তথ্যাবলি প্রদান করে। যেহেতু সে অন্য নামে কানাডাকে আশ্রয় প্রার্থনা এবং ১৯৫৯ সালে নাগরিকত্ব লাভ করে সেহেতু কানাডিয় কর্তৃপক্ষ এতদিন পর্যন্ত তাকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু সম্প্রতি ইমিগ্রেশন রেকর্ড পত্রের ব্যাপক অনুসন্ধানের পর কানাডিয় সরকার এই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে সমর্থ হয়। প্রাপ্ত তথ্যাবলির ওপর ভিত্তি করেই মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের দায়ে এই রাজাকারটির নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে কানাডা সরকার তাকে বহিষ্কার করার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেছে। (কানাডায় যুদ্ধাপরাধী/ পৃষ্ঠা ১৪০, প্রকাশক: দেশবিদেশ পাবলিকেশন্স, কানাডা ২০০৯)। এছাড়াও ১৯৯৫ সালে আরেক ওলন্দাজ যুদ্ধাপরাধীকেও অনুরূপ অপরাধে চল্লিশ বছরপর নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে কানাডা থেকে বহিষ্কৃত করা হয়। এখন সেই ওলান্দাজ রাজাকার হল্যান্ডের ‘চৌদ্দ শিকে’ বন্দি।

২০০৯ নভেম্বরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রুয়ান্ডার ৩৭ বছর বয়সী এক নাগরিককে অন্টারিওর দক্ষিণাঞ্চল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম জ্যাকস মুন্সওয়ারি। তার বিরুদ্ধে নিজ দেশ রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে গণহত্যাকালীন সময়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা গত ৬ নভেম্বর উইন্ডসর অন্টারিও থেকে তাকে ভুলে নিয়ে যায় এবং ৭ নভেম্বর তাকে অটোয়ার একটি আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার বিরুদ্ধে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২০০০ সালের অক্টোবর মাসে ক্রাইম অ্যাগেইন্সট হিউম্যানিটি অ্যান্ড ওয়ার ক্রাইম অ্যান্ট প্রণয়নের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে তিনি যুদ্ধাপরাদের দায়ে অভিযুক্ত হলেন। ছয় বছর আগে গোপনে তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। রুয়ান্ডার কিবাইয়ি গণহত্যার সঙ্গে জ্যাকস মন্সওয়ারি জড়িত কিনা তা আরসিএমপি যুদ্ধাপরাধ ইউনিট নিশ্চিৎ করতে পারবে। ওয়েন্টার্ন প্রোভিন্সের রাজধানীতে ঐ সম্প্রদায়ের অবস্থান। ১৯৯৪ সালে ঐ সম্প্রদায়ের লোকের যখন শরর্ণাথী হিসেবে একটি গির্জায় আশ্রয় নিয়েছিল তখন বুলডোজারের সাহায্যে গির্জা গুড়িয়ে দিয়ে কমপক্ষে ২০০০ হাজার ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ গত বছর সাবেক রুয়ান্ডার ডেপুটি ইন্টিলিজেন্স প্রধান আইডেলপোন্সে লিজেইমানাবে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে গণহত্যার নির্দেশে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে ১০০ দিল ধরে রুয়ান্ডায় গণহত্যা চলাকালে প্রায় ৮ লাখ মানুষকে হত্যা করে হয়। গত মাসে ডেজায়ার মুনিয়ানেজাকে কানাডার ওয়ার ক্রাইম অ্যান্টের আওতায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কুইবেকের একজন বিচারক গত মাসে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া ২৫ বছর তাকে প্যারোল না দেওযার আদেশ দেন। সার্জেন্ট মেনার্ড বলেন, মুনাযেনজার অপরাধ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুন্সওয়ারেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ছিলেন। মুন্সওয়াবে কিভাবে কানাডায় এসেছিলেন এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় তার স্ট্যাটাস কী তা এখনো স্পষ্ট নয়। সার্জেন্ট মেনার্ড বলেন, এ ব্যাপারে কানাডিয়ান বর্ডার সার্ভিস এজেন্সিই ভালো বলতে পারবে। তবে আমি কেবল জানি, তিনি রুয়ান্ডার নাগরিক। আরসিএমপি জানায়, তদন্তকালে তারা রুয়ান্ডা, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েক জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে তারা কমপক্ষে চারবার রুয়ান্ডা গেছেন। সার্জেন্ট মেনার্ড আরো বলেন, আমরা রুয়ান্ডা সরকারের কাছ থেকে ভালো সহযোগিতা পেয়েছি। (দ্র: অনলাইন সাপ্তাহিক দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম, ২২ নভেম্বর ২০১০, টরন্টো।)

এদিকে একাত্তরের অনেক যুদ্ধাপরাধী (যুক্তরাজ্যে চৌধুরী মঈনুদ্দিনসহ তিন জন এবং যুক্তরাষ্ট্রে আশরাফুজ্জামান খান) বিদেশে অবস্থান করছে, তারা এসব দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছে। তবে কানাডায় কোনো যুদ্ধাপরাধী আছে কিনা তা এখনো জানা যায়নি, কিন্তু বঙ্গবন্ধু খুনী রয়েছে।

Saka Choudhury should be hanged for his crime


উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী টরেন্টোতে এসেছিল। তখন তাকে জুতা পিটা করা হয়। এ সচিত্র সংবাদ স্থানীয় সাপ্তাহিক বাংলা কাগজে ছাপা হয়। ২০০৯-এ টরেন্টোতে এসেছিল মওলানা আবুল কালাম আজাদ। তখন তাকেও প্রবাসীরা তীব্র শীত উপেক্ষা করে প্রতিবাদ জানায়। ২০০৬-এ দেলোয়ার হোসেন সাঈদী লন্ডনে অনুরূপভাবে বিক্ষোভের মুখে পড়ে। সে সময় বৃটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘ডেইলী সান’ তার ২০০৬ এর ১৪ জুলাই সংখ্যায় তাকে জানোয়ার হিসেবে উল্লেখ করে ছিল। অবজারভার, টাইমস, মিরর, চ্যানেল ফোর তাকে নিয়ে রিপোর্ট করেছিল। এবং সাঈদী পালিয়ে বেঁচে ছিল সেই সময়। (দ্র: বাংলাদেশী যুদ্ধাপরাধী বাঁচাতে বিলেতি পাঁয়তারা/ ফারুক যোশী, দৈনিক সমকাল, ৩ আগস্ট ২০১০ ঢাকা)।

গত ২৪ জুন ২০১০-এ ঢাকাস্থ দৈনিক সংবাদে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কানাডার বিশিষ্ট আইনজীবী, মানবাধিকার আন্দোলনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং আন্তর্জাতিক রিফিউজি আইন বিশেষজ্ঞ উইলিয়ান শ্লোন বললেন, বিশ্ব সম্প্রদায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাংলাদেশকে সক্রিয় সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। তবে এজন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বাংলাদেশকে। বিদেশীরা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে, আইনি ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু বিচার করতে হবে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের মানুষকেই। যেখানে বিদেশীদের কোন হাত নেই, থাকা উচিৎও নয়।

Khaleda zia wants to protect war criminals

যুদ্ধাপরাধের বিচারে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ মনে করে উইলিয়ান শ্লোন বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার অসম্ভব কিছু নয়। … মূলত অপরাধের তথ্য-প্রমাণ তুলে আনাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি সরকারকে সর্তকতার সঙ্গে সরকারের গুরুত্ব দিয়ে নিতে হবে। সরকারের নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে এই বিচার সম্পন্ন করতে না পারলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় সরকার পাল্টে গেলে তখন সংবিধান পরিবর্তন করে যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করেও দেয়া হতে পারে। তাই চলতি মেয়াদের মধ্যেই যথার্থ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
যুদ্ধের পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে দীর্ঘ সময় কোন নেতিবাচক প্রভাব রাখবে কিনা এখন প্রশ্নের জবাবে শ্লোন জানান, আর্জেন্টিনায় নোবেল বিজয়ী এডলফ প্যারেজ ইসকুইভ ১৪ বছর পরে নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে গত সপ্তাহে বিচার পেয়েছেন। এখানে কতটা সময় বিলম্ব হলো সেটি বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে আর্জেন্টিনা, চিলি, রুয়ান্ডা, নুরেনবার্গ ট্রায়াল, কম্বোডিয়ায় এ জাতীয় অপরাধের বিচার হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিচার ৭০ বছর পরে করা সম্ভব হলে মাত্র চার দশকের মাথায় বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যাবে না এমন কথার কোন মূল্য নেই।

hang them all anti states activists


ঢাকায় গত ২০ জুন ২০১০-এ তিনটি সংগঠন আয়োজিত এ সংক্রান্ত এক ত্রিমহাদেশীয় সম্মেলনে উত্তর আমেরিকার জুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রধান অ্যাটর্নি উইলিয়াম শ্লোন আরো বলেছেন, … মৃত্যুদণ্ডে না দিয়ে যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই অপরাধীরাও কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবে, অতীতে এমনটি ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয়ও আলোচিত হয়েছে। সেটি হচ্ছে বাংলাদেশের সার্বভৌম সত্ত্বা এবং নিজস্ব আইনের ধারাবাহিকতা। যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশের সার্বভৌম সত্ত্বাকে অশ্রদ্ধা করা।

কানাডা কখনোই মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের জন্য নিরাপদ নয়। আলোচ্য লেখা এবং শ্লোনের বক্তব্য থেকেও যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে কানাডা ও কানাডিয়ানদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়।

we want justice

Chief Justice Ruhul Amin addressed a seminar presided over by infamous rajakar and war criminal Shah Abdul Hannan. Shah Abdul Hannan is also a member of the fundamentalist and anti-independence religious part Jamaat-e-Islami.
Read detailed report HERE and also read about how ignorant and idiotic Shah Hannan is HERE.
Mr. Chief Justice, be aware! Soon people may call you “Tui Rajakar! as well.

muitya razakar


বৌভাতের অনুষ্ঠানে নিজামী বয়কট!
Infamous “Moitta” rajakar, a powerful minister during the past Nizami-Khaleda government and a heinous war criminal, Motiur Rahman Nizami was kicked out from a wedding event in Dhaka recently. Read the news HERE.
We pray for more events like this. We pray for the wonderful couple who had the courage to do this. Inshallah, every rajakar will be kicked out like this soon

henry kisinger was war criminal too

In the minutes of a secret 1975 meeting of the National Security Council attended by President Ford reveal Henry Kissinger grumbling, “It is an act of insanity and national humiliation to have a law prohibiting the President from ordering assassination.” – LOST CRUSADER: The Secret Wars of CIA Director William Colby, by John Prados, Oxford University Press, 2003
The February and March 2001 issues of Harper’s Magazine feature a series by Christopher Hitchens on the case for charging Kissinger with War Crimes. Part I: The making of a war criminal Part 2 will feature an extensive section on East Timor.
Christopher Hitchens’ Trial of Henry Kissinger: A Review By Mike McGlothlin …
Hitchens presents a rather straightforward argument that establishes two seemingly undeniable propositions: on at least one occasion, Henry K. conspired to commit murder, and that on numerous other occasions, Henry K. was the primary force behind certain acts that could quite plausibly be considered war crimes. The case for Henry K. as murder conspirator is what Hitchens calls a “lay-down” case, i.e., one that stands out for its clear facts and clear law. The murder victim is General Rene Schneider, who was the Commander in Chief of the Chilean Army, whom Hitchens misidentifies as the Chilean “Chief of Staff.”; According to Hitchens (and the 09 September, 1970 minutes of the “40” Committee, the Kissinger chaired secret panel that oversaw U.S. covert operations), the Chilean military had a strong tradition of neutrality in political affairs, a rarity on the South American continent. General Schneider was known as an officer committed to upholding the Chilean constitution and therefore opposed to the rumored incipient coup against newly elected Socialist President Salvador Allende by a right wing would-be junta of current and former Chilean military officers. Using U.S. Government communications cables from the CIA and documents from the State Department, and White House, Hitchens relates the facts of Kissinger’s direct involvement in the direction, planning, financing, and general support by the organs of the U.S. Government in the plot to remove General Schneider.
LA Weekly: WLS Review: Henry: Portrait of a Serial Kissinger
How You Can Do What the Government Won’t: Arrest Henry Kissinger – Manhattan’s Milosevic, The Village Voice, Week of August 15 – 21, 2001
… bring Henry Kissinger to justice for crimes against humanity. Consider, though, what happened to the last people to talk even jokingly about plans for a citizen’s arrest of the real-life model for Dr. Strangelove. … An indictment of Henry Kissinger for genocide, crimes against humanity, and war crimes would include (but not be confined to) the following. …
Henry Kissinger: War Criminal or Old-Fashioned Murderer? – Welcome to the “Henry Kissinger: Unindicted Terrorist” file! …
Incredibly, Henry Kissinger—the man who rivals Pol Pot for the dubious honor of being the person responsible for the death of the largest number of innocent people in South East Asia (and far surpasses Pol Pot in criminality when one factors in Kissinger’s various levels of responsibility for wholesale slaughter and repression in other parts of the world)—still wields significant power in the United States; but his role as eager facilitator of mass murder, totalitarian repression and other atrocities is never discussed in polite society.
Masterminded the murder of as estimated 600,000 peasants in Cambodia (the “Secret bombing”)
Pol Pot And Kissinger On war criminality and impunity by Edward S. Herman
President Ford and Secretary of State Kissinger gave the go ahead to Suharto’s invasion of East Timor and subsequent massive war crimes there, and the same Kissinger, who helped President Nixon engineer and then protect the Pinochet coup and regime of torture and murder, and directed the first phase of the holocaust in Cambodia (1969-75) …
The time was September 11, 1973. The country was Chile. The event was the bloody overthrow of a democratic government. And the criminals were Henry Kissinger, Richard Nixon, The CIA, and Chilean Dictator Augusto Pinochet. Pepsico, ITT, and other large U.S. corporations were also guilty parties in these crimes against the State and against The People of Chile. The Pornography of Power
TOBY HARNDEN, TELEGRAPH, LONDON: Washington reacted furiously to a request by Chilean judges for Henry Kissinger, the former secretary of state, to answer questions about an American journalist killed during the 1973 coup in Chile. A Bush administration official condemned the Chilean supreme court decision to send questions to Dr Kissinger, saying the move increased unease about the proposed International Criminal Court in The Hague. The administration source said: “It is unjust and ridiculous that a distinguished servant of this country should be harassed by foreign courts in this way. The danger of the ICC is that, one day, US citizens might face arrest abroad and prosecution as a result of such politically motivated antics.” . . . In its ruling, Chile’s supreme court said a list of questions should be sent to the US supreme court with regard to Dr Kissinger’s knowledge of the circumstances surrounding the death of Charles Horman, a journalist arrested by troops loyal to General Augusto Pinochet. His body was identified in a mortuary weeks later . . . The Chilean order came less than two months after French detectives delivered a court summons to Dr Kissinger, who was visiting Paris, asking him to testify about the disappearance of French nationals in Chile . . . In another case, a judge in Argentina has ordered Dr Kissinger to testify in a human-rights trial about a 1970s plan by South American governments to kidnap and kill Left-wing critics. [news/2001/08/01]
The US involvement in coup planning began even before Allende’s election victory, under the code-name FUBELT, with action plans prepared for Kissinger’s consideration. One group of officers working under CIA direction carried out the assassination of General Rene Schneider, a pro-Allende officer, in an unsuccessful attempt to spark a full-scale coup before Allende could take office. Can Henry Kissinger be Extradited?
He serves his consulting firm, Kissinger Associates, serves as a sort of private National Security Adviser and Secretary of State to about 30 major corporations around the world, such as American Express, Freeport-McMoRan Minerals, Chase Manhattan Bank, Volvo … Walter Isaacson on Booknotes
According to the new book Kissinger, by Walter Isaacson, published in 1992 by Simon & Schuster, ASEA Brown Boveri (page 733) had a contract or project arrangement with Henry Kissinger’s money-making consulting firm, Kissinger Associates, in 1990. According to this fascinating book, Kissinger started his consultancy in July 1982 with “$350,000 lent to him by Goldman Sachs and a consortium of three other banks.” Some of the people Kissinger hired to work for him were Brent Scowcroft, former national security adviser, and Lawrence Eagleburger “who was lured aboard as president in June 1984 after serving as undersecretary of state”. Both Snowcroft and Eagleburger left Kissinger Associates in 1989 to join President Bush’s administration. Kent Associates is a subsidiary of Kissinger Associates. On pages 733-734 a list of some of Kissinger’s corporate clients include, aside from ABB: Shearson Lehman Hutton, Atlantic Richfield, Banca Nazionale del Lavora (BNL) “a Rome bank that made illegal loans to Iraq”; Fluor; Hunt Oil; Merck & Co.; Union Carbide. http://www.workonwaste.org/wastenots/wn218.htm

The Iranian: Opinion, Kissinger, Good will – From “The Oil Deal With Iran” by Henry Kissinger, distributed by the Los Angeles Times Syndicate and published in The Washington Post (October 28, 1997).
Chapter 9 – An Abridged History of the United States – . This material rested on illegal wiretaps ordered by Henry Kissinger, and it turned up in John Ehrlichman’s office.
Kissinger, Iraq, BNL

Kissinger was born in Fuerth, Germany, on May 27, 1923, came to the United States in 1938, and was naturalized a United States citizen on June 19, 1943. He speaks French and German.
Kissinger is married to the former Nancy Maginnes and is the father of two children [Elizabeth and David] by a previous marriage. First wife, Ann Fleischer.
Henry and Nancy Kissinger have a house in Kent Connecticut.
On American Express Board of Directors.
The Chairman of Kissinger McLarty Associates is Dr. Henry Kissinger. Washington, D.C.-based Kissinger McLarty Associates is an affiliate of Kissinger Associates, Inc., which is headquartered in New York City. GlobalNet Retains Kissinger McLarty Strategic Consulting Firm … “The firm of Kissinger, McLarty & Richardson epitomizes Washington, D.C. at its worst – sleazy ex-administration officials, feeding off special influence and power and then … – Larry Klayman from Judicial Watch KISSINGER, McLARTY & RICHARDSON
Kissinger Associates, Inc.
350 Park Avenue
New York, NY 10022
(212) 759-7919
Printer Friendly Version E-Mail This Article
Published on Tuesday, June 11, 2002 in the Toronto Globe & Mail
Is Henry Kissinger a War Criminal?
Thirty years after the death of Charles Horman inspired a bestseller and an Oscar-winning movie, his widow still pursues those she believes are really to blame — including the former U.S. secretary of state. It’s one reason the quest for international justice makes the United States so nervous.
by Marcus Gee

THE ACCUSED
Henry Alfred Kissinger, former U.S. Secretary of state, national security adviser and Nobel laureate
THE ACCUSATIONS
Complicity in coup against Chilean government plus the “killing, injury and displacement” of three million people during Vietnam War.
CURRENT WHEREABOUTS
Head of Kissinger Associates, Inc., international consulting firm in Washington.
It was a rainy day in spring when they brought Charles Horman home.
Also See:
For Chilean Coup, Kissinger Is Numbered Among the Hunted
New York Times 3/28/02
Chile Court OKs Kissinger Queries in ‘Missing’ Case
Reuters 7/31/01
Chileans Call on Kissinger for Answers About Killing
Guardian of London 7/6/01

U.S. Victims of Chile’s Coup: The Uncensored File
by Diana Jean Schemo, New York Times 2/13/00
The U.S. journalist and filmmaker had been abducted and killed after the Chilean military overthrew president Salvador Allende in September, 1973. Six months later, his body arrived by plane in a crude wooden crate with “Charles Horman from Santiago” scrawled on the side.
As the makeshift coffin was unloaded at Green-Wood Cemetery in Brooklyn, N.Y., the driving rain washed the words away, sending trails of black ink down the box. It was April 13, 1974.
Even before Mr. Horman’s widow, Joyce, found herself standing in the rain that day, she had vowed that no one would ever erase the memory of what had been done to her husband.
She has been true to her word.
In the chaos that followed General Augusto Pinochet’s decision to depose Mr. Allende on Sept. 11, 1973, hundreds of the leftist president’s supporters were taken away to be tortured, beaten or killed. Mr. Horman, an Allende sympathizer living in Santiago, was one of them.
In the month that followed, Ms. Horman, then 29, and her father-in-law, Ed, searched frantically for Mr. Horman — an ordeal dramatized in the Oscar-winning 1982 film Missing, starring Sissy Spacek and Jack Lemmon.
The movie ends when Joyce and Ed discover that Charles is dead, killed by the military and his body hidden in a wall at a Santiago cemetery. But Joyce Horman’s search continues. For 28 years, she has struggled to track down those who killed the man she loved. And the person at the center of her quest is none other than Henry Alfred Kissinger.
A leading citizen of the world’s most powerful nation, Mr. Kissinger served as U.S. Secretary of state and was awarded the Nobel Peace Prize in the same year as the coup in Chile. He was also national security adviser to president Richard Nixon, and Ms. Horman believes that he and other U.S. officials were deeply involved in the events that cost her husband his life.
It has been almost 30 years, and she doesn’t seem bitter. At 57, she is pleasant and straightforward, in her stylish glasses with owlish frames, and has friends, a career and a social life. Nor does she seem obsessed with her dead husband. No photographs of him are to be seen in her bright apartment on Manhattan’s Upper East Side.
Even so, the events of 1973 still cast a dark shadow. Asked what she misses most about Charles, she dissolves into tears and then explains: “He was intelligent, friendly, interesting — he just loved life, and that’s why his friends loved him.”
Of course, nothing can replace the life she and her husband might have had. All that she wants now, she says, is the simple truth — and that leads to Mr. Kissinger.
“There’s no way around him,” she says. “He is the most responsible person for the behavior of the U.S. government in Chile at that time. He needs to be put on trial.”
A few years ago, that would have seemed wildly improbable. The armor of sovereign immunity protected all officials from the acts they committed on government service, no matter how unsavory.

But the 1998 arrest of the man behind the coup, Gen. Pinochet, has knocked a gaping hole in that armor Since then, a posse of victims, human-rights activists and crusading prosecutors has tried to apply this “Pinochet precedent” to others accused of mass killing, torture, abduction and war crimes.
Mr. Kissinger is their biggest quarry yet, and they are getting closer all the time. Now, prosecutors in Chile, Argentina, Spain and France want him to testify about what happened in Chile. Last month, a Chilean judge staged a re-enactment of the Horman killing at Santiago’s National Stadium, and now wants Mr. Kissinger at least to answer written questions about U.S. involvement in the coup.
Ms. Horman is thrilled, but she has a different reason for chasing the great statesman: “My main goal is to find out what happened to Charles.”
As author Thomas Hauser wrote in The Execution of Charles Horman,the book that inspired the film Missing,both Mr. Horman, the brilliant son of a New York industrial designer, and Joyce, the lively daughter of a Minnesota grocer, had absorbed the questing, skeptical spirit of the Sixties.

Mr. Horman covered the riots at the Democratic National Convention in 1968 for the liberal journal The Nation and made a film about napalm.
The couple had been married less than three years when, in 1971, they set off in a camper van through Latin America. When they reached Santiago, they decided to stay.
It was a heady time in Chile. Mr. Allende had come to power in 1970 and brought in radical changes: land reform, wealth redistribution and the nationalization of key industries. Mr. Horman began writing for a local magazine that often attacked Mr. Nixon for undermining the Allende government.
When the military stepped in, he was in the coastal city of Vina del Mar with friend Terry Simon; they met two U.S. officers who seemed to know a lot about the coup. Mr. Horman concluded that his country had plotted with Gen. Pinochet, and made copious notes — which may have cost him his life.
Back in Santiago, essentially a war zone, he and his wife decided to return to the States as soon as possible. But on Sept. 17, a light green truck pulled up at their house, and a dozen soldiers carried out Mr. Horman and armloads of papers and books. Ms. Horman wasn’t home at the time, and never saw her husband again.
The truck drove straight to the National Stadium, a clearinghouse for the thousands of Chileans being rounded up. At least four dozen were killed there — a first installment on the more than 3,000 killed during the Pinochet regime.
Returning home to find the house in a shambles, Ms. Horman contacted the U.S. Embassy seeking help. She got the run-around. When she finally asked if the embassy could get her into the stadium, a U.S. diplomat asked, “What are you going to do, Mrs. Horman, look under all the bleachers?”

For four weeks, she pounded the pavement, meeting with anyone she thought might be able to help, while her father-in-law, who had flown in from New York, visited hospitals and morgues. Finally, they got into the stadium. A Chilean colonel led Ed Horman to a platform, where he addressed the roughly 2,000 prisoners under guard in the stands. “Charles Horman, this is your father,” he said. “If you are here, I would like you to take my word that it is safe and come to me now.”
His heart jumped when a young man ran forward, but he realized that it was not his son. “Right then,” he said later, “I knew I’d never see Charles again.”

Five days later, an official of the Ford Foundation, a U.S. philanthropic agency, told Mr. Horman he had learned from a military contact that his only child “was executed in the National Stadium on Sept. 20.”
The next day, a U.S. official confirmed that Charles’s body had been found in a local morgue. Two days later, Ms. Horman and her father-in-law flew home, and it was then that her real struggle began.

She and her husband’s parents brought a wrongful-death suit against the U.S. Government and Mr. Kissinger, but it was dismissed for lack of evidence in 1978. The book followed, along with the Oscar-winning 1982 movie by director Constantin Costa-Gavras.
By then Ms. Horman was struggling with an attack of lymphoma and she decided she had to get on with her life.

For the next two decades, she worked as a computer and systems consultant for the United Nations Development Program, the office of the Mayor of New York, Oracle Corp. and others. She dated other men, but did not remarry.
Before the coup, she and her husband had planned to return to the United States to raise a family. He would have turned 60 on May 15 (an occasion she marked by holding a 20th anniversary party for Missing, with proceeds going to the Charles Horman Truth Project).

She remained close to the Hormans, moving into the Manhattan building where her husband grew up and helping to care for them as they aged. Ed Horman died in 1993, followed last year by his wife, Elizabeth, at the age of 96.
Ms. Horman never gave up wondering about her husband’s death, and in 1998 an event gave her new hope. On Oct. 16, she turned on the news to hear that Gen. Pinochet had been arrested in London on an extradition request from a Spanish judge seeking to prosecute him. Exhilarated, she traveled to England to join the attempt to persuade British courts to hand him over. Eventually, the British government let him go home for health reasons, but Gen. Pinochet’s detention set a precedent that galvanized the international justice movement.
Ms. Horman and her lawyers tried again to get the U.S. Government to release classified documents relating to her husband’s disappearance.
Finally, in 2000, it gave them the full results of two internal reviews of the killing. Neither found any direct U.S. link, but one did uncover “circumstantial evidence” that the Central Intelligence Agency “may have played an unfortunate part in Horman’s death.”

It went on to say that “the government of Chile might have believed this American could be killed without negative fallout from the U.S. Government”

The second review said it was hard to believe that the Chilean military would have killed Mr. Horman unless it had some kind of signal from Washington.
Although tantalizing, the disclosures were not enough to reopen the wrongful-death case. So Ms. Horman did some sleuthing on her own. Supported by money from the Ford Foundation, she traveled to France, Switzerland, Sweden, Chile and different parts of the United States to search for people who might have some idea of how and why her husband was killed.

She gathered enough information to file a criminal complaint in Chile against Gen. Pinochet and others in his circle. The case found its way to Juan Guzman, the crusading judge who indicted the general for human-rights crimes after his return from England and who managed to have his immunity to prosecution lifted.
The General, now 86, escaped trial after a court found him mentally unfit, but Judge Guzman is pushing ahead all the same. Last month, he arranged the reenactment at the National Stadium, and last fall sent 17 questions about the Horman abduction to Mr. Kissinger and other U.S. Officials So far, no reply.
Joyce Horman believes U.S. Officials tipped off friends in the Chilean military that her husband had found evidence of U.S. Involvement while in Vina del Mar. Rafael Gonzalez, a disgruntled Chilean intelligence agent, told reporters in the 1970s that the army’s head of intelligence, Gen. Augusto Lutz, decided that Mr. Horman “knew too much,” and an American military officer was in the room at the time.

Ms. Horman hopes to track down that man. “I want to find out exactly what happened to Charlie: who picked him up, why they picked him up, who questioned him, how they came to decide he had to disappear.”
Those questions lead her straight to Mr. Kissinger who, as well as being national security adviser, led the high-level “40 committee” that helped to oversee U.S. intelligence efforts.
Even if he played no direct role in her husband’s death, she believes he knew how and why it happened. “Kissinger rolled up his sleeves in Chile. . . . He went down to talk to Pinochet after the coup. I mean, for heaven’s sake, how obnoxious.”
Mr. Kissinger, now 79, denies everything. He refused to return calls for this article, but has said he knows nothing about the Horman case. “If it were brought to my attention, I would have done something,” he told The New York Times.
He also denies any role in the coup. In his books, he admits he took a dim view of Mr. Allende and joined a U.S. effort to have him overthrown, but aborted it as a lost cause. He met Gen. Pinochet, he says, to tell him to pay attention to calls from the U.S. Congress for an end to political repression.
But Mr. Kissinger also has others on his trail. Last May, a French judge sent the police to his Paris hotel to ask him to appear at the Justice Ministry the next day and answer questions about five French citizens who disappeared after the Chilean coup. Instead, Mr. Kissinger promptly left town.
That same month, an Argentine judge said he wanted Mr. Kissinger to testify about American involvement in Operation Condor, the scheme by South American dictatorships, including Argentina and Chile, to abduct or kill opponents living in exile.
In April, a British human-rights campaigner asked a London judge to arrest Mr. Kissinger under the Geneva Conventions Act of 1957 for the “killing, injury and displacement” of three million people in Indochina during the Vietnam War years. The judge rejected the application, but not before Mr. Kissinger had to endure a protest by 200 activists calling him an “evil war criminal.” Plans for a similar protest apparently led him to cancel a planned trip to Brazil as well.

Finally, in Washington, Mr. Kissinger faces a $3-million (U.S.) lawsuit by the family of René Schneider, a Chilean general assassinated in 1970 for opposing plans for a coup against Mr. Allende.
This quickening pace of the pursuit raises a touchy issue for international justice: Whose justice is it?
ntil now, those brought to trial largely have come from poor or defeated countries such as Serbia and Rwanda. But activists say that must change. To have any force, international law must apply to the rich and powerful too.
“If the drive to put Kissinger in the witness box, let alone the dock, should succeed, then it would rebut the taunt about ‘victor’s justice’ in war-crimes trials,” writes British journalist Christopher Hitchens, who asserts in his book The Trial of Henry Kissinger there are grounds for an indictment. “It would demonstrate that no person, and no society or state, is above the law. Conversely, if the initiative should fail, then it would seem to be true that we have woven a net for the catching of small fish only.”
But Mr. Kissinger is one fish the United States does not want on anyone’s hook. The attempts to arrest or even question him touch off Washington’s worst fears about the evolving movement for international justice.
Just last month, the administration of President George W. Bush declared it would have nothing to do with the world’s first permanent war-crimes tribunal, the International Criminal Court. If foreign judges could second-guess their every decision, U.S. officials argue, it would be open season on the United States.

The man making that argument most forcefully perhaps has the most to lose: Mr. Kissinger himself.
“Nobody can say that I served in an administration that did not make mistakes,” he said in London in April. “It is quite possible that mistakes were made, but that is not the issue. The issue is, 30 years after the event, whether the courts are the appropriate means by which this determination is made.”

In his book Does America Need a Foreign Policy?, he holds that, in theory, any court anywhere can try a person accused of crimes against humanity.
“When discretion on what crimes are subject to universal jurisdiction and whom to prosecute is left to national prosecutors, the scope for arbitrariness is wide indeed,” he argues.
None of this cuts much ice with Joyce Horman.
She argues that the officials of a democratic nation like the United States must be accountable for their actions. If that takes a foreign prosecutor, so be it.
“The American military and the American government have an incredible amount of power and the abuse of that power was typified by the Chilean coup,” she says. “For Americans to be bumping off Americans in foreign lands is not what American citizens want their government to be doing.”

PAKISTAN ISI AGENT ZIA REHABILITATE THE WAR CRIMINALS AND MURDERERS OF BANGABANDHU

we want justice

Ziaur Rahman, a Major in the Pakistan Army, Zia’s unit (2/5 East Bengal Regiment) took control of the Kalurghat radio station in Chittagong at the onset of the Bangladesh Liberation War and on behalf of Bengali nationalist leader(Father of the Nation)Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman.made the most widely transmitted declaration of independence of Bangladesh which was the third and last in a series of such declarations. Recognized as a war hero, he was honored with the second highest national award Bir Uttom in 1972. A high-ranking accomplished officer in the Bangladesh Army, Zia was appointed chief of army staff in course of dramatic events that evolved following the assassination of Sheikh Mujibur Rahman in 1975 by a group of junior military officers and these army personnel met Ziaur Rahman at his residence to killed Sheikh Mujibur Rahman.

PISI Agent Ziaur Rahman Protected war criminals and awarded Murderers of Bangbandhu

This was followed shortly by another coup and counter-coup and ultimately led to the consolidation of power under Zia as Deputy Chief Martial Law Administrator. The counter-coup, sometimes referred to as a sepoy mutiny was organized by the socialist Colonel Abu Taher.

Ziaur Rahaman assumed the office of the President of the country in 1977 He engaged himself in politics by floating a political party that came to be known as janodal. Later he founded the Bangladesh Nationalist Party. For achieving popular support, he adopted policies bringing the government increasingly under Islam, which he included in the national constitution. It has been alleged that Zia helped individuals involved in the assassination of Sheikh Mujib rehabilitate home and abroad, immunized by the Indemnity Act. He also came to be known as Mr. Clean for his unquestionable integrity.

we want justice, the criminal should be hanged.

Coup of 1975 and its aftermath
On August 15, 1975 Sheikh Mujib and his family were killed by a group of military officers. One Sheikh Mujib’s cabinet ministers Khondaker Mostaq Ahmad was appointed the president and, subsequently, Major General Ziaur Rahman was appointed as the army chief after removal of Major General Shafiullah. However, the coup of 15 August caused a period of instability and unrest in Bangladesh and more so across the ranks and files of the army. Brigadier Khaled Mosharraf and the Dhaka Brigade under Colonel Shafat Jamil made a counter-coup on November 3, 1975, and Ziaur Rahman was forced to resign and was put under house arrest. A third coup was staged under Colonel Abu Taher and a group of socialist military officers and supporters of the left-wing Jatiyo Samajtantrik Dal on November 7, called the “National Revolution and Solidarity Day” (Sipoy-Janata Biplob) (Soldiers and People’s Coup) Brigadier Khaled Mosharraf was killed and Colonel Jamil arrested, while Colonel Taher freed Ziaur Rahman ( After few months Ziaur Rahman arrested and execute Colonel Taher )and re-appointed him as army chief. Following a major meeting at the army headquarters, an interim government was formed with Justice Abu Sadat Mohammad Sayem as chief martial law administrator and Zia, Air Vice Marshal M. G. Tawab and R ear Admiral M. H. Khan as his deputies. Zia also took on the portfolios of home affairs, finance, industry and information along with becoming the army chief of staff. However, discipline in the army had totally collapsed and it was difficult to disarm the soldiers and put them back to the barracks. Fearing that Colonel Abu Taher, who in fact rescued him few months earlier, would attempt to organise another revolt, Zia ordered his arrest. Following a secret trial in a military court, Zia authorised the execution of Colonel Taher on July 21, 1976. Zia became the chief martial law administrator following Justice Sayem’s elevation to the presidency on November 19, 1976. He tried to integrate the armed forces, giving repatriates a status appropriate to their qualifications and seniority. While this angered some veterans of the Mukti Bahini, who had rapidly reached high positions following liberation in 1971, Zia defused potential threats from discontented officers by sending them on diplomatic missions abroad.

Ziaur Rahman Rehabilitate the war criminals and former Prime Minister Shah Azizur Rahman was one of them (Bengali: শাহ আজিজুর রহমান) (1925 – 1988) was a Bangladeshi politician who served as the Prime Minister of Bangladesh. However, he was the subject of considerable controversy for his collaboration with the Pakistan Army against the struggle to establish Bangladesh. Shah Azizur Rahman was born in Kushtia of the province of Bengal (now in Bangladesh). As a student political leader, Rahman participated in the Bengal Provincial Muslim League and the Pakistan movement. At the outbreak of the Bangladesh Liberation War, Rahman supported the Pakistani state forces and denounced the Bengali nationalist struggle, joining Bengali politicians such as Nurul Amin, Golam Azam and Motiur Rahman Nizami. He would lead the Pakistani delegation to the United Nations in November 1971, where he would emphatically deny that the Pakistan Army’s Operation Searchlight had degenerated into genocide. Following the defeat of Pakistan in the Indo-Pakistani War of 1971, Rahman continued to reside in Pakistan. In the post-war period, authorities estimated that over a million people had been killed in Bangladesh by Pakistani state forces and collaborating militias. Rahman would continue to lobby Muslim nations in the Middle East to decline diplomatic recognition to Bangladesh.

Return to Bangladesh: Shah Azizur Rahman was permitted to return Bangladesh after liberation war. Shaikh Mujibur Rahman was a good friend of him and released Shah Aziz from jail. There are saying that while Azis was in prison Mujib provide his family 3,000 taka each month. When Major General Ziaur Rahman became the President of Bangladesh, zia allow Aziz to take part in national election and appointed him to the post of prime minister. Rahman also helped Zia organise the Bangladesh Nationalist Party, which won the 1978 parliamentary elections. Both Zia and Azizur Rahman have received fierce criticism for issuing the Indemnity Act, which gave amnesty to the killers of Sheikh Mujib and legalised the military coups of 1975.

MAULANA (GHU AZOM) GOLAM AZAM

(Bengali: গোলাম আযম) (born 7 November 1922), is a Bangladeshi political leader who is recognized by the Bangladeshis as one of the worst war criminals of the Liberation War of Bangladesh. The former Ameer of Jamaat-e-Islami Bangladesh, he opposed the independence of Bangladesh both during the liberation war and upon its liberation on December 16, 1971 and lead the formation of Shanti Committee, Razakar and Al-Badr to thwart the freedom fighters of Bangladesh. He also lobbied against the acknowledgment of new-born Bangladesh after 1971. He was a permanent resident of England until 1978, and maintained Pakistani citizenship until 1994 due to the decision by the Bangladeshi government at the time to refuse him citizenship. From 1978 to 1994 he lived in Bangladesh illegally without any authorized Bangladeshi visa.In 1994, the Supreme Court upheld the decision to restore his citizenship of Bangladesh as a matter of birth-right.He was the leader of Jamaat-e-Islami Bangladesh until 2000.

EARLY POLITICAL CAREER

Azam entered politics as a student leader at Dhaka University, and in 1947 became the Secretary General of the Dhaka University Central Students Union. Among his earliest campaigns was participation in the Bengali Language Movement during 1950s. He submitted the memorandum to the Pakistan government demanding Bengali as one of the state languages, on behalf of the students of Dhaka University, following the demand made by Dhirendranath Datta in the Pakistan Constituent Assembly in February 1948 and the resulting nationalist uprising in East Bengal. Azam, however, distanced himself from the Language Movement when it became clear that it was becoming a rallying call for a secular Bengali nationalist movement rather than one focused on Bengali Muslim activism alone. Since his return to Bangladesh in the 1970s Ghulam Azam has never participated in the official commemorations of the Language Movement and he and his party celebrate that event separately Azam became the secretary of the Islamist political party, Jamaat-e-Islami Bangladesh, in 1957. Later, he became the Ameer (president) of the Jamaat in East Pakistan in 1969. He was also a participant in the formation of the Pakistan Democratic Alliance in 1967.

EARLY INITIATIVES WITH SHANTI COMMITTEE

During the Bangladesh Liberation War of 1971, Azam played a central role in the formation of Peace Committees, which declared the independence movement to be a conspiracy hatched by India.[2] Azam was one of the founding members of this organization.[2] After the genocide of 25th March Pakistani forces lost control of Bangladesh. To help control this situation Pakistani army set up a network of peace committees superimposed upon the normal civil administration as army couldn’t rely upon that administration. Peace Committee members were drawn from Jamaat-e-Islami led by Ghula Azam, Muslim League and Biharis. Peace committee served as the agent of army, informing on civil administration as well as general public. They were also in charge of confiscating and redistribution of shops and lands from Hindu and pro-independence Bengali- mainly relatives and friends of the freedom fighters. Almost 10 million Bangladeshis fled to neighboring India as refugees. The Shanti Committee also recruited Razakars. Razakars were common criminals who had thrown their lots with the army. On April 12, 1971, Azam and Matiur Rahman Nizami led processions denouncing the independence movement as an Indian conspiracy.

FORMING RAZAKARS AND AL-BADR

During Azam’s leadership of Jamaat-e-Islami, Ashraf Hossain, a leader of Jamaat’s student wing Islami Chhatra Sangha, created the Al-Badr militia in Jamalpur District on 22 April, 1971. Current Jamaat Ameer (supreme leader) Matiur Rahman Nizami was the supreme commander of this militia. Nizami was a leader of Islami Chhatra Shongha then.
Also, in May, 1971, another Jamaat leader Mawlana Yusuf, a subordinate to Azam, created the Razakar militia in Khulna. The first recruits included 96 Jamaat party members.

I put this in FaceBook already for some idiots, if not a chic major, a full scale Major General [55 Div Com – Jessore] go to Khulna Radio Station and declare Independence of Khulna, will he get support from 4 neri-kutta! Will the people, armed forces believe his declaration and join the armed struggle against Bangladesh, then how could an unknown Major Zia declare independence and the idiots of Bangladesh join Liberation War, which Lunatic believe in it! Even Killer of Bangabandhu, Zia never claim that in his life time, but after his sad demise, Paki ISI Bustard tried to spoil the theme of our Liberation Struggle and many of our Children believed and being trapped by their ill propaganda! I hope our friends will read it and clear their mind and come back to sense! Said: Shahidul Alam on facebook.com

Durnithir Borputra Tareq

BNP+Jamat Jote is more aggressive after the arrest of WAR CRIMINALS and organizing attack on Electric Offices, Gas stations, Power stations and most cases Police & RAB watching these sabotage, people know it for certain that such problems are the legacy of Corrupt Govt. Of Khaleda + Jamat Jote, when Tarek looted about 4000 crore Taka by supplying “Khamba” instead new Power Stations!!

tareq will be Immortal for crime and money laundering