Mukthishena71

Archive for 2011|Yearly archive page

স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি জামাতের হত্যাযজ্ঞ ২০০১ ২০০৬

In Crime and criminals on March 21, 2011 at 9:27 am

এসএএমএস কিবরিয়া শ্রদ্ধায় ও স্মৃতিতে মহিউদ্দিন আহমদ ফরেন সার্ভিসে আমার ৩৪ বছরের ক্যারিয়ারের শুরুতে, আমার সৌভাগ্য আমি জনাব এসএএমএস কিবরিয়া উপদেশ, পরামর্শ এবং কিছুটা সানি্নধ্যও পেয়েছিলাম। কিবরিয়া সাহেবকে প্রথম দেখেছিলাম ইসলামাদে ১৯৬৯-এ। তিনি কিছুদিন আগে জাকার্তার পাকিস্তান এম্বেসি থেকে বদলি হয়ে ইসলামাবাদে পাকিসত্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাইরেক্টর হিসাবে যোগ দিয়েছেন।

১৯৫৪ সালের সাবেক পাকিস্তান ফরেন সার্ভিস ব্যাচের এক কর্মকর্তা এই কিবরিয়া সাহেবের কথা আগেই শুনেছিলাম, তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র, ইকোনোমিক্স অনার্স এবং এমএতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট, তারপর সর্ব পাকিস্তান ভিত্তিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক পরিচালিত পরীৰায়ও প্রথম স্থান অধিকার করেন। তাঁর এই ব্যাচে আর একজন বাঙালী প্রবেশনার ছিলেন জনাব ফখরুদ্দিন আহমদ। কিবরিয়া সাহেব এবং ফখরম্নদ্দিন সাহেব, দু’জনই আমাদের পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। ফখরুদ্দিন সাহেব দুই বার। আবার এই দু’জনই আমাদের সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন। ফখরম্নদ্দিন সাহেব ফরেন সেক্রেটারি ছিলেন ১৯৭৪-৭৫এ প্রথম বার। আর দ্বিতীয় বার ১৯৮৬-৮৭তে। ফখরুদ্দিন সাহেবকে ফরেন সেক্রেটারি হিসাবে প্রথমবার সহ্য করতে পারছিলেন না জেনারেল জিয়াউর রহমান, এয়ার মার্শাল তোয়াব এবং কেবিনেট সেক্রেটারি শফিউল আযমরা। ১৯৭৫-এর নবেম্বরে ফখরুদ্দীন সাহেবকে অপসারণ করে তাঁর জায়গায় ফরেন সেক্রেটারি হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয় জনাব তবারক হোসেনকে। তবারক হোসেন জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে পাকিসত্মান প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবে চীন সফরে গিয়েছিলেন ১৯৭১-এর নবেম্বরে। ভুট্টো তখন চীনে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ত ভারতের বিরম্নদ্ধে অস্ত্রশস্ত্রসহ কূটনৈতিক এবং সরাসরি সামরিক অভিযানের সাহায্য চাইতে। তবারক হোসেন ছিলেন ফখরম্নদ্দিন সাহেবের পাঁচ বছরের সিনিয়র। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসে ওএসডি হিসাবে ১৯৭৫-এর নবেম্বর পর্যন্ত আমাদের ফরেন মিনিস্ট্রিতে চেয়ার- টেবিলবিহীন অবস্থা থেকে একেবারেই ফরেন সেক্রেটারি। আর ফখরম্নদ্দিন সাহেবকে পাঠানো হলো যুগোসস্নাভিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসাবে। ‘৭৯ পর্যনত্ম এই ফরেন সেক্রেটারির পদ থেকে তবারক হোসেন সাহেব ছিলেন ওয়াশিংটনে আমাদের এ্যাম্বাসেডর হিসাবে।

আর তার জায়গায় ফরেন সেক্রেটারি হিসাবে জেনেভা থেকে আসলেন এসএএমএস কিবরিয়া। জেনেভায় কিবরিয়া সাহেব ছিলেন জাতিসংঘের ইউরোপীয় অফিসে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। ফখরম্নদ্দিন সাহেবকে ফরেন সেক্রেটারি হিসাবে দ্বিতীয়বার সহ্য করলেন না আমাদের আর এক লেফটেন্যান্ট জেনারেল, প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ফখরম্নদ্দিন সাহেব জেনারেল এরশাদের দরবারে অন্য সচিবদের মতো নিয়মিত হাজিরা দেন না কেন, লাল টেলিফোনে প্রেসিডেন্টের খোঁজখবর নেন না কেন_ এই ছিল ফখরম্নদ্দিন সাহেবের বিরম্নদ্ধে প্রধান অভিযোগ। সুতরাং ফখরম্নদ্দিন সাহেব ছিলেন ওএসডি এবং তার পর অবসর। পরে ১৯৯০-এর ডিসেম্বরে এরশাদের পতনের পর, দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফখরম্নদ্দিন সাহেব ফরেন মিনিস্ট্র্রিতে ফিরে এলেন ‘উইথ গেস্নারি এ্যান্ড অনার।’ বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের এই সরকারে ফখরম্নদ্দিন সাহেব দায়িত্ব পেলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসাবে। আমরা জানি যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা, বেতন_ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। ফখরম্নদ্দিন সাহেবও তা পেলেন এবং সাফল্য ও কৃতিত্বের সাথেই কয়েক মাস পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করলেন। দারম্নণ সাফল্য এবং কৃতিত্বের সাথে সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করলেন কিবরিয়াও। ১৯৯৬-এর ২৩ জুন যে মন্ত্রিসভা শেখ হাসিনা গঠন করলেন, সেখানে তিনি জনাব কিবরিয়াকে যথাযোগ্য মর্যাদা এবং গুরম্নত্ব দিয়ে সম্মানিতও করলেন। এখানে উলেস্নখ করা প্রয়োজন যে, জনাব কিবরিয়া কিন্তু ১৯৯৬-এর ১২ জুনের সাধারণ নির্বাচনে সংসদ সদস্যপদে নির্বাচন করেননি; এবং তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কমিটির প্রধান হিসাবে আওয়ামী লীগের পৰে পুরো নির্বাচনী ক্যাম্পেনের দায়িত্বেই থাকলেন। ১৯৭৫-এর ২১ বছর পর ১৯৯৬তে এই প্রথম আওয়ামী লীগ আবার ৰমতায় গেল। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ে শেখ হাসিনার ‘ক্যারিশমা, অবদান এবং ভূমিকা অন্য যে কোন নেতার চাইতে প্রত্যাশিতভাবেই বেশি ছিল। শেখ হাসিনার সাথে তখন আর যাঁরা এই বিষয়ে প্রবল ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে জনাব শামসুল কিবরিয়াও শীর্ষস্থানে ছিলেন। কিবরিয়া সাহেব ১৯৮১ থেকে পরবতর্ী ১১ বছরে ছিলেন ‘এসকাপ’ (ঊঝঈঅচ- ঊপড়হড়সরপ ধহফ ঝড়পরধষ ঈড়সসরংংরড়হ ভড়ৎ অংরধ ধহফ চধপরভরপ) -এর এঙ্িিকউটিভ সেক্রেটারি। এসকাপ হচ্ছে জাতিসংঘেরই একটি আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান। এই অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো এবং সমন্বয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। এঙ্িিকউটিভ সেক্রেটারির পদটি হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য নির্বাহীর। তাঁর র্যাঙ্কটি হচ্ছে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের। জাতিসংঘের শীর্ষ নির্বাহীর পদটি হচ্ছে সেক্রেটারি জেনারেলের। কয়েক বছর আগে ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেলের একটি পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তার পরই হচ্ছে ‘আন্ডার সেক্রেটারি’ জেনারেল। কিবরিয়া সাহেবও ছিলেন জাতিসংঘের একজন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল। বাংলাদেশের তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এমন একটি শীর্ষ পদে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন একটানা ১১ বছর। তার পর তার মতোই আরও দু’জন বাংলাদেশী এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন। একজন ফরেন সার্ভিসে, আমার ব্যাচমেন্ট আনোয়ারম্নল করিম চৌধুরী। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। ২০০৬-এ ৰমতায় ফিরে এসে মোহতারেমা খালেদা জিয়া এবং দৈনিক মানবজমিন তাকে সহ্য করতে পারছিলেন না। তখন জাতিসংঘের মহাসচিব কোফি আনান এই আনোয়ারম্নল করিম চৌধুরীকে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল র্যাঙ্কের একটি পদে নিয়োগ দিয়ে নিউইয়র্কেই রেখেছেন। এখন তিনি অবসরে, থাকছেন নিউইয়র্কেই। বর্তমানেও জাতিসংঘ সিস্টেমে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল র্যাঙ্কে একজন বাংলাদেশী কাজ করছেন। তিনি আবার একজন মহিলা, অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক আজকের কাগজ’-এর সম্পাদক কাজী শাহেদ আহমেদের শ্যালিকা। নাম তাঁর আমীরা হক, এখন আছেন টিমুর ইস্টে (পূর্ব তিমুর)। জাতিসংঘের এক সাবেক মহাসচিব কোফি আনান যখন জাতিসংঘের এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল, তখন কিবরিয়া সাহেব কিন্তু একজন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল। কোফি আনান জাতিসংঘে ছোট চাকরি দিয়ে শুরম্ন করে পরে উঠতে উঠতে সেক্রেটারি জেনারেলও হলেন। আর এই পদে থাকলেন পাঁচ বছর মেয়াদী পর পর দুই টার্ম। কিবরিয়া সাহেব মেধাবী ছাত্র ছিলেন, মেধাবী কর্মকর্তা ছিলেন। জেনেভাতে বাংলাদেশের অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার, স্থায়ী প্রতিনিধি, তার পর ফরেন সেক্রেটারি। ছিলেন জাতিসংঘের একজন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলও। এমন যোগ্যতা, দৰতা এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন মানুষকে শেখ হাসিনা ১৯৯২তেই নিয়োগ দিলেন তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবে। শুধু ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ পদ থেকে কিবরিয়া সাহেবের তখনকার গুরম্নত্ব বোঝা যাবে না। এই পদে কিবরিয়া সাহেব যথার্থভাবেই হয়ে উঠলেন শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠতম পরামর্শদাতাদের একজন হিসাবেও। একটি গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয় এ প্রসঙ্গে সকলকে লৰ্য করতে অনুরোধ করি। এত বছর উচ্চশিৰিত ব্যক্তিবর্গ এবং সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লোকজন আওয়ামী লীগকে এড়িয়ে গেছেন। আমার জানা মতে, এই শাহ আবু মোহাম্মদ শামসুল কিবরিয়া হচ্ছেন এমন সমৃদ্ধ ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রথম ব্যক্তি, যিনি আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে সরাসরি যোগ দিলেন। ফরেন সার্ভিসের এই কিবরিয়া সাহেবের কিছু আগে বা পরে যোগ দিলেন সাবেক সিভিল সার্ভিস অব পাকিসত্মান- সিএসপির মফিজুর রহমান সাহেব; অনেক মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব। এখন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল, এডমিরাল, এয়ার মার্শালরাও আওয়ামী লীগে যোগ দিতে সঙ্কোচবোধ করেন না। কিন্তু ১৯৯২তে কিবরিয়া সাহেব এবং মফিজুর রহমান সাহেবদের আগে আওয়ামী লীগে ইউনিভার্সিটির প্রফেসর, সিএসপি, পিএফএস এবং এমনসব পাকিসত্মানের কেন্দ্রীয় ক্যাডার কর্মকর্তাদের কয়জন ছিলেন? আওয়ামী লীগের প্রতি দেশের সামরিক-বেসামরিক ব্যাকগ্রাউন্ডের আমলা, বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর উন্নাসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে কিবরিয়া সাহেব এই দলটিতে যোগ দিয়ে যে রিফর্ম-এর সূচনা করেন, যে ভূমিকা রাখেন, তা দেশের গুরম্নত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী কতগুলো শ্রেণীর কাছে আওয়ামী লীগের সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ বললেই তখন যে ‘নেগেটিভ’ প্রতিক্রিয়া দেখা যেত, এখন তা আর নেই। স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রলীগের সাথে অল্পবিসত্মর যুক্ত ছিলাম বলে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই এই কথাগুলো বলছি। কিবরিয়া সাহেব জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন না। কিন্তু শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার টেকনিক্যাল কোটায় তাঁকে অর্থমন্ত্রীর পদে নিয়োগ দিয়ে তখন যথার্থ কাজটিই করলেন। কেউ কেউ আশা করেছিলেন, তিনি শেখ হাসিনার নতুন সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দিলেও তিনি একই রকমের সাফল্য ও কৃতিত্ব দেখাতে পারতেন বলে অনেকেই মনে করেন। কিন্তু তাহলে অর্থমন্ত্রী কে হবেন? আবদুস সামাদ আজাদকে অবশ্যই অর্থমন্ত্রী করা যেত না। এসএএমএস কিবরিয়া অর্থমন্ত্রী ছিলেন বলেই তো, আমার মনে হয়, তখন দেশের এবং আমাদের দরিদ্র-অবহেলিত শ্রেণী নানান কিসিমের সাহায্য সহযোগিতা পেতে থাকল। মনে পড়ে, বয়স্ক ভাতা তিনিই তো প্রথম শুরম্ন করলেন এবং তা বছর বছর বাড়াতেও থাকলেন। বাড়াতে থাকলেন সুবিধাপ্রাপ্তদের সংখ্যায় এবং সুবিধার পরিমাণেও। কিবরিয়া সাহেবের চালু করা সেই প্রোগ্রাম এখন বর্তমান অর্থমন্ত্রী জনাব এএমএ মুহিতের জামানায়, আরও বাড়ছে। আশা করি, বাড়তে থাকবেও। বাড়াতে হবে যতদিন এক জনমাত্রও দরিদ্র, পঙ্গু, ভিৰুক থাকবে এই দেশে। মুহিত সাহেবও কিবরিয়া সাহেবের মতোই সিলেটের। দু’জনই কাছাকাছি বয়সের। মুহিত সাহেবও কিবরিয়া সাহেবের মতো মেধাবী ছাত্র ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। মুহিত সাহেব ইংরেজীতে অনার্স এবং এমএতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। দু’জনই বাহান্নোর ভাষা আন্দোলনে জেল খেটেছেন। মুহিত সাহেবেরও আনত্মর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিবরিয়া সাহেবের এসকাপে, ব্যাংককে এবং মুহিত সাহেবের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ম্যানিলায় এবং দু’জনই একাত্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ওয়াশিংটনের পাকিসত্মান এ্যাম্বেসিতে কিবরিয়া সাহেব ছিলেন পলিটিক্যাল কাউন্সিলর। আর মুহিত সাহেব ইকোনোমিক কাউন্সিলর। পাকিসত্মানের এই এ্যাম্বেসির ‘ডেপুটি চীফ অব মিশন’ এনায়েত করীম (পরে ফরেন সেক্রেটারি) এডুকেশন কাউন্সিলর আবু রম্নশ্্দ মতিন উদ্দিন, থার্ড সেক্রেটারি সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী (পরে ফরেন সেক্রেটারি)সহ সকল বাঙালী কর্মকর্তা-কর্মচারী ৭১-এর আগস্টের প্রথমদিকে তাদের চাকরি-বাকরি ছেড়ে দিয়ে মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পৰে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনমত সৃষ্টি করা ছাড়াও নানাবিধ কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। এমন ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষদের কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া মানবদরদী হতেই হয়। তাই তো, আমার বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার সরকারগুলোর তিন জন অর্থমন্ত্রীই_ জনাব তাজউদ্দীন আহমদ, জনাব এসএএমএস কিবরিয়া এবং জনাব এএমএ মুহিত_ সকলেই মানবদরদী, গরীব দরদী, সৎ, দৰ এবং সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ। এই তিন অর্থমন্ত্রীর কারও বিরম্নদ্ধে কি কখনও সামান্যতম দুনীর্তি বা অনিয়মের অভিযোগ ছিল বা এখনও আছে?

১৯৬৯-এর অক্টোবরে আমার জীবনের প্রথম ফরেন পোস্টিং-এ যাচ্ছিলাম লন্ডনে। লন্ডনের পাকিসত্মান হাইকমিশনে থার্ড সেক্রেটারি হিসাবে আমার এই বদলি ইসলামাবাদের ফরেন মিনিস্ট্রিতে। ফরেন মিনিস্ট্র্রিতে তখন কিবরিয়া সাহেব ডাইরেক্টর (পারসোনেল)। মানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, প্রমোশন, পোস্টিং, ট্রান্সফার, বরখাসত্ম, সাসপেনশন, ইত্যাদি বিষয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বস্তুত তাঁর সইতেই আমার লন্ডনে বদলি।

লন্ডনে যাওয়ার আগে দেখা করতে গেলাম তাঁর সঙ্গে। কাজ দিলেন একটি, আর উপদেশও দিলেন একটু। কাজটি হলো, রেজার (তাঁর একমাত্র ছেলে, তখন বয়স বোধ হয় আট/দশ) জন্য ডাকটিকেট পাঠাতে হবে। ডাকটিকেট সংগ্রহ রেজার ‘হবি’। আর উপদেশটি? জীবনে চলার পথে অনেক অনেক ‘কম্প্রোমাইজ’, আপোস করতে হবে। তবে জীবনে এমন সময়ও আসবে যখন বলতে হবে, বুঝতে হবে, অবস্থান নিতে হবে_ ‘দিস্্ ফার, নো ফারদার।’ কিবরিয়া সাহেবের এই কথাগুলো ভিন্নভাবে পরে ফখরম্নদ্দিন সাহেবও আমাকে বলেছেন। তাঁদের এই উপদেশটি আমার জীবনে আমি যথাসাধ্য অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি। একাত্তরের আগস্টের প্রথম দিকে কিবরিয়া সাহেব ওয়াশিংটনে যে কাজটি করেন, একাত্তরে লন্ডনের মাঠেও তা করার অনুপ্রেরণা কিবরিয়া সাহেবদের কাছ থেকে পেয়েছিলাম।

 

১৯৭৫ ২০০৬
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.