Mukthishena71

খূনী জিয়ার নীতি

*জিয়াউর রহমানের নীতি ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এতবড় মিথ্যাচারের নজির পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল**

[মাননীয় প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রীমকোর্টের অন্য মাননীয় বিচারপতিগণ জিয়াউর রহমানের শাসনকালকে অবৈধ ঘোষণা করে যে রায় দিয়েছেন তা সঠিক ও যথার্থ ছিল।]

সুপ্রীমকোর্টের মাননীয় বিচারপতিদের দুটি রায়ে বিএনপি ৰুব্ধ হয়ে দেশে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বিএনপি ও চারদলীয় জোট হরতালসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কাজকর্ম, যেমন বাস পোড়ানো ও অন্যান্য ধ্বংসাত্মক কাজ শুরু করেছে। ফলে জনগণের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি কলকারখানায় উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে সরকারী ও বিরোধী দল উভয়কে ধৈর্যের সঙ্গে সমস্যার সমাধানে গ্রহণযোগ্য পথ উপস্থাপন করতে হবে। শুধু নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগই বাড়বে, সমস্যার সমাধান হবে না।যে দুটি রায়ের কথা বলছি, তার একটা হচ্ছে জিয়াউর রহমানের অবৈধ শাসন ও দ্বিতীয়টি হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল ঘোষণা সংক্রান্ত। এ রায় দুটি দিয়েছেন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের মাননীয় বিচারপতিগণ, শুধু তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এককভাবে নন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিএনপির নেতৃবৃন্দ কেবল প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে এ দু’টি রায়ের জন্য এককভাবে দায়ী করছেন।আমরা দেখতে পাচ্ছি, সরকারের পক্ষ থেকে এ সমস্যা সমাধানে আলোচনার জন্য বার বার বিএনপিকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কিন্তু বিএনপি এতে সাড়া দিচ্ছে না। বিএনপির দাবি ওই আলোচনার আগেই সরকারী দলকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখার ঘোষণা দিতে হবে। কিন্তু এক কথায় তাঁদের সকল দাবি আগেই মানতে হবে, তারপর তাঁরা আলোচনায় বসবেন। তাঁদের এ বক্তব্যটি অযৌক্তিক, কারণ সব দাবি মানা হয়ে গেলে আলোচনার আর অবকাশ থাকে না।

কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি বিএনপির এ অবস্থান স্ববিরোধী। তারা একদিকে বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বর্তমানরূপে বহাল থাকবে, আবার একই সঙ্গে বলছে, প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে বিচারপতি এবিএম খায়রম্নল হককে মানবে না। এর কারণ কি? মূলত উপরোলিস্নখিত দুটি রায়ের একটায় জিয়াউর রহমানের শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা_ আরেকটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা বাতিল করা, যা তারা কোনমতেই মেনে নিচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে বলতে চাই, বিএনপি বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই উপরোক্ত সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ নিতে পারত। তা না করে তারা বর্তমান সরকারের বিরম্নদ্ধে তাদের সকল আন্দোলন চালাচ্ছে। যার ফলে দেশ ও জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যে সাংবিধানিক পন্থায় নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তারা ৰমতায় যেতে চায়।

জনগণের কাছে তাদের আসল রূপ পরিষ্কার হচ্ছে যে তারা অসাংবিধানিকভাবে ৰমতায় যেতে বেশি আগ্রহী। তবে বাংলাদেশের জনগণ কিছুতেই এ অপচেষ্টাকে মেনে নেবে না। বিএনপি যদি সত্যিকারের অর্থে বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণ চায়, সে ৰেত্রে তারা সংলাপের পথে এগিয়ে আসতে পারে। সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন দিলেও সংসদ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা  রাখে। সুতরাং আলোচনার মাধ্যমে যে কোন সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে আমরা মনে করি।

মূলত জিয়াউর রহমানের শাসনকালকে অবৈধ ঘোষণা করায় বিএনপি বিচারপতি খায়রম্নল হকের ওপর রম্নষ্ট হয়েছে। জিয়াউর রহমানের শাসনকালকে উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করে যে রায় দিয়েছে তারই প্রেৰিতে কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা করছি।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মোশতাক ও সায়েমের পর জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ৰমতা দখল করে সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করে স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ পরিচালনা করেন।
জিয়াউর রহমান ২৯ নবেম্বর, ১৯৭৬ সালে সায়েমের নিকট থেকে প্রধান সামরিক প্রশাসকের পদটি দখল করেন।

তিনি ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বন্দুকের নলের মুখে সায়েমকে সরিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন।
তারপর জিয়াউর রহমান ১৯৭৭-এর ৩০ মে এক প্রহসনের গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭৮ সালের ৩০ জুন জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি তখন সেনাপ্রধান পদে নিয়োজিত ছিলেন। সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় নির্বাচনের কোন প্রকার সুযোগ নেই। তাই তিনি রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে অযোগ্য ছিলেন।

১৯৭৮ সালের ৩০ জুন তিনি সেনাবাহিনীর পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন এমন কোন নোটিফিকেশন প্রতিরৰা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়নি। তাই জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অবৈধ।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সকল কার্যক্রম অবৈধ।

***প্রতিরৰা মন্ত্রণালয়ের ২৮ ফেব্রম্নয়ারি ১৯৭৯ সালের নোটিফিকেশন নং-7/8/D-1/75-160- তে বলা হয়েছে, BA-69 MAJOR GENERAL ZIAUR RAHMAN, BU, PSC IS PROMOTED TO THE RANK OF TEMPORARY Lt. GENERAL WITH IMMEDIATE EFFECT.”

**এই তারিখে পদোন্নতি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিধায় প্রতিরৰা মন্ত্রণালয় ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল নোটিফিকেশন নং 7.8/D-1/75-270বলা হয়েছে, BA-69 MAJOR GENERAL ZIAUR RAHMAN, BU, PSC IS PROMOTED TO THE RANK OF TEMPORARY LIEUTENANT GENERAL WITH EFFECT FROM 28th APRIL 1978.”
**2. THIS CANCELS THIS MINISTRY’S NOTIFICATION NO.7/8/D-1-75/160 DATED 28th FEBRUARY 1978. NO.7/8/D-1./75-271: BA-6 TEMPORARY LIEUTENANT GENERAL ZIAUR RAHMAN, BU PSC IS RETIRED FROM THE SERVICE OF THE BANGLADESH ARMY WITH EFFECT “FROM 29th APRIL 1978.”

**এ দু’টি নোটিফিকেশন থেকে সহজেই বোঝা যায় জিয়াউর রহমানের পদোন্নতি ও অবসরগ্রহণ দুটিই নধপশ ফধঃবফ। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এতবড় মিথ্যাচারের নজির পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এটা রাষ্ট্রপতির অসদাচরণ ও শাসত্মিযোগ্য অপরাধ।

জিয়াউর রহমান যদি ২৯ এপ্রিল ১৯৭৮ সালে সামরিক বাহিনীর সেনাপ্রধানের চাকরি থেকে অবসর নিয়ে থাকেন আর হোসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১ ডিসেম্বর ১৯৭৮ সালে সেনাপ্রধান হিসাবে নিযুক্ত হন, তাহলে এ মধ্যবর্তী সময়ে সেনাপ্রধান কে ছিলেন? এ সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার আছে।

জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় নীতি ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়_ তিনি রাষ্ট্রপতি হিসাবে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় পরিপন্থী কাজ করেছেন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রধান Beneficiery ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সাৰাতকার থেকে জানা যায়, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।

তিনি সংবিধানে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দের স্থলে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ’ প্রতিস্থাপিত করে প্রকারানত্মরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেন।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিদেশী দূতাবাসে নিয়োগ করেন এবং খন্দকার মোশতাক আহমদ কর্তৃক জারিকৃত বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশ তিনি সংবিধানে অনত্মভর্ুক্ত করেছেন।

স্বাধীনতার পর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমানই পি.পি.আর-এর মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চালু করেন। তিনিই গোলাম আযমকে দেশে আসার অনুমতি দেন।

তিনি সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে বাদ দিয়ে সামরিক বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে প্রমাণ করেছেন তাঁর আসল চেহারা কি? তিনি বাধ্য হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও তাঁর চিনত্মাচেতনা ও মানসিকতা মুক্তিযুদ্ধের পরিপন্থী ছিল।

উপরে বর্ণিত আলোচনা ও অন্য তথ্যাদি যা এ প্রবন্ধে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, মাননীয় প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রীমকোর্টের অন্য মাননীয় বিচারপতিগণ জিয়াউর রহমানের শাসনকালকে অবৈধ ঘোষণা করে যে রায় দিয়েছেন তা সঠিক ও যথার্থ ছিল।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.